দেশের খুলনা অঞ্চল থেকে ভারতে রফতানি পণ্যের তালিকায় যুক্ত হয়েছে সুন্দরবনের মধু। সেখানকার বিহার প্রদেশে বাংলাদেশের উন্নতমানের এই মধুর নতুন বাজার সৃষ্টি হয়েছে। সাতক্ষীরার ভোমরা শুল্ক ষ্টেশন দিয়ে গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ পণ্যটি রফতানি হচ্ছে। গত এপ্রিল পর্যন্ত ১ লাখ ১ হাজার ৮৮০ কেজি মধু রফতানি হয়েছে। এতে আয় হয়েছে ৬১ হাজার ৭৪০ ডলার। মধু রফতানি শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাজারে অন্যান্য বছরের তুলনায় মূল্যও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম অংশে গত পয়লা এপ্রিল থেকে মধু আহরণ মৌসুম শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত মধু আহরণ কাজ চলবে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্রে জানা গেছে, এ অঞ্চলের ৩টি প্রতিষ্ঠান ভারতে মধু রফতানি করে। ট্রাকযোগে তারা সাতক্ষীরার ভোমরা শুল্ক ষ্টেশন দিয়ে মধুর চালান ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছে দেয়। সেখান থেকে তা চলে যায় সোজা বিহার প্রদেশে। রফতানিকারী প্রতিষ্ঠান জুঁই এন্টারপ্রাইজের মালিক মিজানুর রহমান জানান, আগামী অর্থ বছরে তার প্রতিষ্ঠান অন্তত এক হাজার মেট্রিক টন মধু রফতানি করার টার্গেট নিয়েছে।
খুলনা রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর সহকারী পরিচালক জানান, ভারতে মধু রফতানি হওয়ায় কিছু কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। রফতানি আয় বৃদ্ধি পেতে থাকলে সরকারিভাবেও রফতানিকারকদের যথাসম্ভব সহযোগিতা দেয়া হবে বলে সূত্র আশ্বাস দেন।
বন বিভাগের একটি সূত্র জানান, বনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কোবাদক, কৈখালী, রায়মঙ্গল, নিশানখালী, লক্ষ্মিপ্রসাদ, আন্ধারমানিক, পাটকোষ্টা, মজোখালী এলাকায় প্রায় ৬০ হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন গাছে মৌমাছি চাক বেঁধেছে। খলসী, পশুর, গরান, কাঁকড়া, গেওয়া, হরগজা, ধুন্দল, বাইন প্রভৃতি বৃক্ষ থেকে প্রধানত মধু সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। ২০১২-১৩ অর্থ বছরে সুন্দরবন (পশ্চিম) অঞ্চল থেকে ১ হাজার ৭শ’ কুইন্টাল মধু আহরণ করা হয়। আহরিত এই মধু থেকে বন বিভাগ ১২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা রাজস্ব আয় করে। ২০১১-১২ অর্থ বছরে ১ হাজার ২শ’ কুইন্টাল মধু আহরণ হয়। ওই বছর রাজস্ব আয় হয় ৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। তবে চলতি অর্থ বছরে মধু থেকে অর্জিত রাজস্ব আয়ের পরিমাণ অনেকটা বৃদ্ধি পাবে বলে বনবিভাগ আশা করছে।
