কাল মুন্সীগঞ্জে খালেদা জিয়ার জনসভা

আপডেট : ২৬ মে ২০১৪, ২৩:০৪
আগামীকাল বুধবার মুন্সীগঞ্জে জনসভা করতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। রাজধানীতে একটিতে পুলিশের অনুমতি না পাওয়া এবং দুটি পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর আগামীকালের সমাবেশের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি মিলেছে। নারায়ণগঞ্জে সাত খুন, ফেনীতে উপজেলা চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেয়া এবং লক্ষ্মীপুরে আলোচিত কয়েকটি খুনের ঘটনার পর প্রশাসনের অনুমতি পাওয়া প্রথম এই সমাবেশকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বুধবার বিকালে মুন্সীগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাটে বিএনপি চেয়ারপারসনের সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন। তিনি জানান, জেলা বিএনপির আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল দুপুরে প্রত্যাশিত স্থানেই জনসভার অনুমতি দেয়া হয়। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দাবিতে এবং নারায়ণগঞ্জে অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার সরকারসহ সারা দেশে গুম-খুন-অপহরণের প্রতিবাদে গত শনিবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত ‘আইনজীবী মহাসমাবেশ’ পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে যায়। ওই মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে খালেদা জিয়ার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। নির্ধারিত স্থানে সমাবেশ করতে না পেরে পরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, খালেদা জিয়া সেখানে বক্তব্য রাখেন। রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, ঢাকা (আইইবি)-এ আয়োজিত নাগরিক সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানও পণ্ড করে দেয় পুলিশ। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপিসহ এর জোটের গুম-খুন-অপহরণ হওয়া নেতা-কর্মীদের পরিবার-স্বজনদের উপস্থিতিতে সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ী ও কূটনীতিকদের সঙ্গে এই মতবিনিময়েও খালেদা জিয়ার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তবে অনুষ্ঠান শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই পুলিশ গিয়ে আইইবি মিলনায়তনের দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়। এর আগে গত ১৭ মে যাত্রাবাড়ির শহীদ ফারুক সড়কে জনসভা করার কর্মসূচি ছিল বিএনপির। সমাবেশে খালেদা জিয়ার বক্তব্য রাখার কথা ছিল। অনুমতি চেয়ে বিএনপি আবেদন করলেও পুলিশ দেয়নি। ঢাকায় পরপর তিনটি কর্মসূচি করতে না দেয়ার সমালোচনা করে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, বিরোধী দলকে উন্মুক্ত ও ঘরোয়া কোনো সভা-সমাবেশও করতে দিচ্ছে না সরকার। এদিকে, গতকাল খুলনায়ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় বিএনপি এই সমাবেশ আয়োজন করে।