টানা ১০ বছর পর ভারতে মনমোহন যুগের অবসান ঘটে শুরু হলো মোদী যুগের। গতকাল সোমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা নরেন্দ্র মোদী। দিল্লিতে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছটা বাজার একটু পরেই রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনের প্রশস্ত চত্বরে চার হাজারেরও বেশি অতিথির সামনে দেশটির ১৫তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিক শপথ নেন মোদী। শপথ নেয়ার সময় হিন্দিতে মোদী বলেন, ‘আমি নরেন্দ্র মোদী ঈশ্বরের নামে শপথ করছি যে, আমি ভারতের অখণ্ডতা রক্ষা করবো। ভয়, ঘৃণা, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেব না। সংবিধান অনুযায়ী ন্যায়-নীতির ভিত্তিতে কাজ করব।’
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মোদী তার প্রথম বার্তায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে গৌরবময় এক ভারতের পান্ডুলিপি লেখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারে ছোট সরকার, কিন্তু সুশাসন নিশ্চিতে বেশি জোর দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল।
শশরীরে উপস্থিত থেকে শপথ অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন সদ্য বিদায় নেয়া প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, সহসভাপতি রাহুল গান্ধীসহ ভারতের অনেক বড় বড় ব্যক্তিত্ব। ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মনমোহন।
গতকাল মোদীর শপথ অনুষ্ঠান ছিল দেশ বিদেশে ব্যাপক আগ্রহের বিষয়। বিভিন্ন টিভি চ্যানেল অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সব সার্ক দেশ ও মরিশাসের সরকার প্রধান বা তাদের প্রতিনিধিরা। শপথ গ্রহণে যোগ দিতে আসা বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে নতুন প্রধানমন্ত্রী আজ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। খবর বিবিসি, এনডিটিভি ও রয়টার্সের।
সূত্র জানায়, এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রায় ৪ হাজার অতিথি উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেসহ আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান এবং মালদ্বীপের সরকার প্রধানও ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন স্পীকার শিরিন শারমীন চৌধুরী। প্রতিবেশী দেশগুলোর এতজন নেতা দিল্লিতে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর শপথ-গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে, এই পদক্ষেপকে ভারতের রাজনীতির ইতিহাসে নজিরবিহীন বলা হচ্ছে। এত অল্প সময়ের মধ্যেও সার্কের সবগুলো দেশের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীরাই মোদীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন কিংবা প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন। এছাড়াও এসেছেন মরিশাসের ভারতীয় বংশোদ্ভুত প্রধানমন্ত্রী নবীন রামগোলামও। তবে যথারীতি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এবং আজ তিনি ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও বসবেন।
মোদীর প্রথম বার্তা: প্রধানমন্ত্রী হবার পর ওয়েবসাইটে তার প্রথম বার্তায় মোদী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি ওয়েবসাইটে আপনাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাই। ১৬ মে ২০১৪ তারিখে ভারতবাসী তাদের রায় জানিয়েছেন। উন্নয়ন, সুশাসন ও স্থায়িত্বের সপক্ষে তারা গণরায় দিয়েছেন। ভারতের উন্নয়ন পথের যাত্রাকে এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নিজেদের উত্সর্গ করার পরম মুহূর্তে আমরা আপনাদের সমর্থন, আশীর্বাদ এবং প্রত্যক্ষ যোগদান কামনা করি। আমরা সকলে মিলে গৌরবময় ভারতের পান্ডুলিপি রচনা করব। আসুন আমরা এক শক্তিশালী, উন্নত এবং সর্বব্যাপী ভারতবর্ষ গড়ি যা সারা পৃথিবীর সঙ্গে একযোগে বিশ্বের শান্তি ও উন্নয়নের ভিত মজবুত করবে। গোটা বিশ্বের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে আমি প্রযুক্তি ও গণমাধ্যমের উপর প্রবল আস্থাবাদী। আমি আশা করি মানুষের মতামত শোনা, বিভিন্ন শিক্ষা লাভ করা ও ব্যক্তি বিশেষের মত আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে এই মঞ্চ উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করবে।
