সৌদি আরবের জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের আমানউল্লাহ আমানের (৪০) গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। নিহত আমানের বাড়ি উপজেলার গোমকোট বানিয়াচৌ গ্রামে। দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার খবর পৌঁছলে পরিবারের লোকজন কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। এই কোরবানির ঈদে হজ্ব শেষে দেশে ফিরে তিনি গ্রামের বাড়িতে নতুন বাড়ি তৈরি করবেন বলে জানিয়েছিলেন আমান।
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, গত রবিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টার দিকে স্ত্রী খালেদা আক্তারের সাথে শেষ কথা হয় আমানউল্লাহর। খালেদা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান, তার স্বামীর সৌদি আরবের আল-কমহুদা শহরে ক্রীড়া সামগ্রীর একটি দোকান রয়েছে। ওই দোকানের মালামাল ক্রয় করতে তিনি জেদ্দা শহরে যান। ওইদিন আমান মোবাইলে স্ত্রীকে জানান, দোকানের কাজ শেষ, একটু পরে জেদ্দার উদ্দেশ্যে প্রাইভেটকারে রওনা হচ্ছেন। কিন্তু বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টার পর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রাত ১টার দিকে আমানউল্লাহর পূর্ববর্তী কর্মস্থলের দোকান মালিক শামছুল হকের মাধ্যমে তার মৃত্যু খবর জানতে পারেন তারা।
পরিবারের স্বচ্ছলতা আনতে গত ২০০০ সালে সৌদি আরব পাড়ি জমান আমান। তার অবুঝ দুই সন্তান ফয়সাল ও সুমাইয়ার মায়ের কান্নায় মুখের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া যেন তাদের কোন ভাষা নেই। আমানউল্লাহর শ্যালক জাকির হোসেন রাষ্ট্রীয়ভাবে তার ভগ্নিপতির লাশ দেশে আনার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।
