দুই মাসেও উদ্ধার করা যায়নি কুমিল্লা মহানগর যুবলীগ নেতা অপহূত রকিবুল হাসান শাওনকে। এ ঘটনায় গত ২৭ এপ্রিল র্যাব ও পুলিশের ১৫ জনের বিরুদ্ধে জেলার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন অপহূতের মা আনোয়ারা বেগম। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ২৯ জুনের মধ্যে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে মামলা দায়ের করলেও ছেলেকে জীবিত ফেরত পাওয়ার আশায় এখনো অপেক্ষায় আছে শাওনের পরিবার।
মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন- র্যাব ১১-এর কুমিল্লা ক্যাম্পের কর্পোরাল শেখ এনামুল হক, এএসআই মো. নুরুজ্জামান, এএসআই মো. রবিউল ইসলাম, মো. ছানাউল্লাহ, কনস্টেবল সঞ্জয় চাকমা, ড্রাইভার মো. ওসমান গনি, এসআই মো. মোশারফ হোসেন, কর্পোরাল মো. আবু ছালেক আহমেদ, এলএস মো. তারেক মিয়া, এএসআই মো. নুরুল ইসলাম, কনস্টেবল সহদেব বর্মন, সিপাহী মো. জামাল হোসেন চৌধুরী, ড্রাইভার সৈনিক মজনু মিয়া, ডিএডি জাহাঙ্গীর আলম ও কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার এএসআই হুমায়ুন কবির (হুমায়ুন)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জন র্যাব সদস্যকে আসামি করা হয়েছে।
অপহূত শাওনের বাবা-মা ও পরিবারের লোকজন জানান, গত ২৯ মার্চ ভোরে নগরীর মুন্সেফ কোয়ার্টার এলাকায় র্যাবের ও সাদা পোশাকধারীসহ ১৫/২০ জন লোক সাবেক সেনা সার্জেন্ট মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবদুল মতিনের বাড়ি ঘেরাও করে তার পুত্র যুবলীগ নেতা শাওনকে ধরে নিয়ে যায়।
শাওনের পিতা আবদুল মতিন জানান, ঘটনার দিন সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লাস্থ র্যাব-১১-এর শাকতলা অফিসে গিয়ে ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাব সদস্যরা জানায়, শাওন নামে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এ ঘটনায় শাওনের স্ত্রী ফারজানা আক্তার মুন্নী গত ৩১ মার্চ কোতয়ালী মডেল থানায় একটি জিডি করেন। এরপর গত ২৭ এপ্রিল শাওনের মা আনোয়ারা বেগম কুমিল্লার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্রট অম্লান কুসুম জিষ্ণুর আদালতে র্যাব ও পুলিশের ওই ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন।
শাওনের মা আনোয়ারা বেগম এই প্রতিনিধিকে বলেন, ‘স্বাধীন দেশের মানুষের জানমাল সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনীর লোকজনই আমার বুকের ধন শাওনেরে কাইড়া নিয়া গেছে। আমি আমার পোলারে (পুত্র) জীবিত ফেরত চাই।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই মো. জিল্লুর রহমান জানান, আদালতের আদেশ গত ২২ মে হাতে পেয়েছি। অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
