দিল্লির এক রুমের বাসা থেকে ৭ রেসকোর্সে

আপডেট : ২৬ মে ২০১৪, ২৩:০৯
দিল্লির একটি রুমে বাস ছিল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা নরেন্দ্র মোদীর। সেই জনাকীর্ণ রুম থেকে আজ তিনি দেশটির সবচেয়ে দামী বাসভবনে। গতকাল সোমবারই তিনি ৭ রেসকোর্সে সেই বাসভবনের বাসিন্দা হয়ে গেলেন। কারণ গতকালই এক সময়ের চা বিক্রেতা মোদী শপথ নেন দেশটির ১৫তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। দিল্লির ১১, অশোকা রোডে অবস্থিত বিজেপি’র সদর দপ্তরের কাছে সংসদ সদস্যের বাংলো থেকে ৭, রেসকোর্স রোডের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দূরত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটার। গাড়িতে ৫ কিলোমিটার দূরত্বের পথ অতিক্রম করাটা কোনো ব্যাপার নয় হয়তো। কিন্তু মোদীকে এই প্রধানমন্ত্রী ভবনে আসতে অতিক্রম করতে হয়েছে কষ্টসাধ্য এক দীর্ঘ পথ। যে পথ ছিল কণ্টকাকীর্ণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখানে আসতে সক্ষম হয়েছেন মোদী। সাংগঠনিক দক্ষতার কারনে ১৯৯৫ সালে মোদী দলের সাধারণ সম্পাদক হন। সদর দপ্তরের কাছের একটি রুমে বাস করতেন বিজেপি’র যুব সংসদ সদস্যরা। মোদীও সেখানেই বাস করতেন যতদিন না তিনি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এরপর আর তার পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তিনি গুজরাট শাসন করে দেখিয়ে দিয়েছেন দক্ষতা থাকলে রাজ্যের উন্নয়নে ভূমিকা রাখাটা তেমন কোনো কষ্টের কাজ নয়। ১৯৯০ সাল থেকে দলের জন্য কাজ করেছেন মোদী। তিনি কথা কম বলেন, কিন্তু কাজ করেন বেশি। বিজেপি’র এক নেতা জানিয়েছেন, ‘নরেন্দ্রভাই’ নামে পরিচিত মোদী সাদা কুর্তা এবং চুরিদার পরিধান করতে পছন্দ করেন। সাদা চুল এবং দাঁড়ির মোদী নিজেকে একজন একনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত করতে সক্ষম হয়েছেন। ১৯৯০ সালে ভারতের এমন ব্যক্তি খুব কম ছিলেন যার কাছে একটি ল্যাপটপ ছিল। কিন্তু মোদী একটি ল্যাপটপের অধিকারী ছিলেন। তার একটি মোবাইল ফোনও ছিল। তিনি সবসময়ই ইন্টারনেটে অনুসন্ধান করতে পছন্দ করতেন। তিনি ইন্টারনেটে কেবল তথ্যই জানতেন। আলাপচারিতায় মগ্ন থাকতেন কম। তিনি কথা কম বলতেন, কিন্তু শুনতেন বেশি। ২০০১ সালে মোদী যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হন, তখন বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়। অনেকের আশঙ্কা ছিল মোদী ভূমিকম্পের এই ধ্বংসযজ্ঞ সামাল দিতে এবং শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবেন কিনা। কিন্তু সবার আশঙ্কা মিথ্যা পরিণত করে দিয়েছিলেন মোদী। দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা বলয়:মহাযজ্ঞের আয়োজনকে মসৃণ করতে দিল্লিকে পরিণত করা হয় এক নিরাপদ কেল্লায়। রাষ্ট্রপতি ভবনের পাশেই প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, অর্থ,পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দপ্তর। দুপুর ১টার পর থেকেই সব অফিসে তালা ঝুলে যায়। কর্মীদের দেওয়া হয় সবেতন ছুটি। আশপাশের দুই কিলোমিটার এলাকা চলে আসে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ঘেরাটোপে। এমনকি সংবাদমাধ্যমকেও যেতে হয় সরকারের দেওয়া নির্দিষ্ট গাড়িতে করে। ভিতরে কোনও মোবাইল ফোনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। গোটা রাজধানীতে ছিল ১৪৪ ধারা। দশ হাজারের বেশি নিরাপত্তা কর্মী ঘিরে থাকে গোটা এলাকা। সেনা ও আধা-সেনা মোতায়েন শুরু হয় শনিবার রাত থেকেই। তল্লাশি চালানো হয় শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। জঙ্গি হামলা ঠেকাতে সড়ক ও আকাশপথেও চলে নজরদারি। উঁচু বাড়ির উপরে অবস্থান নেন স্নাইপার, এনএসজি’র সার্প স্যুটাররা। সতর্ক অবস্থায় থাকেন বিমান সেনারা। ডগ স্কোয়াড, ১৫ টি বম্ব স্কোয়াড চালায় চিরুনি তল্লাশি। প্রজাতন্ত্র দিবসে যেমন নিরাপত্তার আয়োজন করা হয়, গতকালের দিল্লি যেন তাকেও ছাপিয়ে যায়। যেসব হোটেলে বিদেশি অতিথিরা অবস্থান করছেন সেখানে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। বিশেষ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ এবং শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহেন্দ্র রাজাপাকসের হোটেলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাটা একটু বেশিই ছিল। কারণ তাদের সফরের বিরোধিতা করছেন অনেকেই।