শি ক্ষ কে র ক থা

স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চাই

আপডেট : ২৭ মে ২০১৪, ২০:০৬
বই হাতে। ব্যাগ কাঁধে। রাত পোহালেই ক্লাসে যাওয়ার চিন্তাটা মাথায় চেপে বসা। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে লেকচার নোটে একপলক দৃষ্টি। ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে শিক্ষকদের লেকচার শোনা ও খাতায় তোলা। প্রতিদিনের এসব কাজগুলো এখন আর করতে হচ্ছে না সাইফুল্লাহ শাহরিয়ারের। কারণ ক্যাম্পাসের আর দশটি ছেলের মত এখন আর ছাত্র নেই। এতোদিন ক্লাসে বসে মন দিয়ে যাদের লেকচার শুনতেন, এখন নিজেই তাদের সারিতে। একই ক্লাসে, তার জায়গাটি শুধু বদলে গেছে। নিজেই পড়াচ্ছেন। বলছিলাম রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিভাগের শিক্ষক সাইফুল্লাহ শাহরিয়ারের কথা। পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার দক্ষিণ শিয়ালকাঠী গ্রামের ছেলে শাহরিয়ার। কলেজ অধ্যক্ষ বাবা মো. মজিবুল হায়দার এবং শিক্ষিকা মা শামসুন্নাহারের তিন সন্তানের মধ্যে বড় শাহরিয়ার। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি গভীর ভালোবাসা। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চায়ও পিছিয়ে ছিলেন না তিনি। স্কুলজীবনে স্কাউটিং, কলেজ জীবনে বিএনসিসি ইত্যাদি নানা সামাজিক সংগঠনের সাথে তার ছিল যোগাযোগ। মন দিয়ে পড়ুয়া শাহরিয়ার ২০০৬ সালের ভর্তিযুদ্ধকে অতিক্রম করে ভর্তি হন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে। ভর্তির পরেই সবার থেকে একটু আলাদা করে চিন্তা করতে থাকেন শাহরিয়ার। পড়াশোনাকে আঁকড়ে ধরেন। প্রথম বর্ষ থেকেই শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতে থাকেন। দিন পেরিয়ে স্বপ্নটা তার আরো প্রসারিত হয়। ক্লাসে ভালো রেসপন্স আর পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষকদের নজরে আসেন। ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন শিক্ষকদের স্নেহের পাত্র। শিক্ষক পরিবারের সন্তান শাহরিয়ারের স্বপ্নটাও যেন ছিল বরাবরের মত। মা-বাবার ইচ্ছেটাও ছিল, শাহরিয়ার বড় হয়ে শিক্ষক হবে। এ বিষয়ে শাহরিয়ার জানান, শিক্ষকতা এটি নোবেল প্রফেশন। সত্ভাবে জীবনযাপন করা যায়। আমার দাদাও ছিলেন একজন শিক্ষক। মা-বাবা দু’জনই শিক্ষক। শিক্ষকতা পেশাটাকে ছোটবেলা থেকে খুব কাছ থেকে দেখে এসেছি। অনুপ্রেরণাও পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নটাকে আরো গভীরভাবে লালন করতে শুরু করলাম। যাদের অনুপ্রেরণায় আজ আমি তাদের সারিতে তাদের প্রতি চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকবো। সাইফুল্লাহ শাহরিয়ারের সেই স্বপ্নটিই বাস্তবে রূপ নিল গতবছর। স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ হওয়ার আগেই তার স্বপ্ন পূরণ। মৃত্তিকা বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর চলাকালীন সময়েই একই বিভাগের প্রভাষক তিনি। চলতি বছরে স্নাতকোত্তরের ফল প্রকাশ পেলে মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগে শাহরিয়ার সেরা জায়গাটি দখল করে নেন। সিজিপিএ ৪ এর মধ্যে ৪ পয়েন্ট লাভ করেন। বোরো ধানের ফলনের উপর পর্যায়ক্রমে শুষ্ক ও সিক্তকরণ সেচ পদ্ধতি প্রভাব এমন শিরোনামে ছিল স্নাতকোত্তরে তার গবেষণা। বর্তমানে নতুন কিছু স্বপ্ন দেখছেন এই মেধাবী শিক্ষক। শিক্ষক হিসেবে একটু আলাদা কিছু করতে চান। দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ততা রোধে প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে চান তিনি। মৃত্তিকা বিজ্ঞানের এই শিক্ষক মাটি থেকে কিভাবে লবণ দূর করা যায় এমন উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে গবেষণার চিন্তা করছেন। তার রয়েছে আরো একটি ব্যতিক্রম চিন্তা। গ্রামের মানুষের জন্য কিছু করতে চান। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, গ্রামের ছেলে হিসেবে মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। ভান্ডারিয়া-পিরোজপুর রাস্তায় ১০ হাজার তালগাছ রোপণ করতে চাই। এমন উদ্যোগের কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, একটা গ্রীন বেল্ট তৈরি করতে চাই। তালগাছ যেমন সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে তেমনি মাটি ক্ষয় রোধ করেবে। কারণ এর রয়েছে গুচ্ছ মূল। ক্যাম্পাসের ছোট ভাই-বোনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের জীবনে স্বপ্ন রয়েছে। স্বপ্নকে চিরদিন স্বপ্ন আকারে নয়, বাস্তবে রূপ দিতে পরিশ্রম করতে হবে। আর এজন্য চাই সত্ সাহস।