অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র উদ্ভাবন করে তাক লাগালো ভাণ্ডারিয়ার সাব্বির

আপডেট : ২৭ মে ২০১৪, ২৩:১৫
বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতায় পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার লক্ষ্মীপুরা গ্রামের আলমগীর হোসেন খানের ছেলে আমানউল্লাহ কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র মোঃ সাব্বির খান অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র আবিষ্কার করে বরিশাল বিভাগে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে। এর পূর্বে উপজেলা পর্যায়ে ভাষা-সাহিত্য ও বিজ্ঞান উভয় বিষয়ে প্রথম ও পিরোজপুর জেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান বিষয়ে দ্বিতীয় ও একই বিষয়ে বরিশাল বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সাব্বির ভাণ্ডারিয়া উপজেলা বার্তাভবনে নিজের আবিষ্কৃৃত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র তৈরিতে ব্যবহূত উপকরণ এবং এর সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে উপস্থিত সাংবাদিকগণকে অবহিত করেন। পারদনির্মিত বৈদ্যুতিক সুইচ, লাল বাতি, সাউন্ড বক্স বা মাইক, মোটর, গ্যাস সিলিন্ডারসহ ডাইব্রোমো ক্লোরো ফ্লোরো মিথেন গ্যাস, ব্যাটারি, তাপ নিরোধক সেলুলয়েড তার, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য উপকরণ। আমানউল্লাহ কলেজের ছাত্র সাব্বির জানায়, বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা উপজেলা পর্যায়ে শুরু হওয়ায় দুই হাজার টাকা খরচে এ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র আবিষ্কার করি। আমার বিদ্যাপিঠের বাংলা বিভাগের শিক্ষিকা নাছিমা ম্যাডামের সহযোগিতায় এখানে উপস্থাপন করি। এটি যদি সম্পূর্ণভাবে তৈরি করে বড় বড় প্রতিষ্ঠান বা ভবনে স্থাপন করা হয় তাহলে আগুনের ক্ষতির হাত থেকে ঐ সকল প্রতিষ্ঠান রক্ষা পাবে। এবং এটি সম্পূর্ণভাবে তৈরি করতে ব্যয় হবে আনুমানিক দেড় লাখ টাকা। সাহায্য ছাড়াই যে কোন ভবনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আগুন নেভাতে সক্ষম যন্ত্রটি। এ যন্ত্রে কোন ভবনে আগুন লাগলে প্রথমে ৫০ থেকে ৬০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেই জননিরাপত্তার জন্য একটি সুইচ অন হয়ে বৈদ্যতিক এলার্ম বাজবে এবং বিপদ সংকেতমূলক লালবাতি জ্বলে উঠবে যাতে ঐ ভবনের লোকজন নিরাপদস্থানে চলে যেতে পারে এবং ভবন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগুন নেভানোর যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে। যদি কর্তৃপক্ষ আগুন নেভাতে ব্যর্থ হয় বা কোন লোক ভবনে না থাকে ভবনের তাপমাত্র বৃদ্ধি পেয়ে ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয় তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্বিতীয় সুইচটি অন হবে। তখন একটি গ্যাসসিলিন্ডারের নির্গমন পথ খুলে যাবে। ঐ গ্যাসসিলিন্ডার থেকে ডাইব্রোমো ক্লোরো ফ্লোরো মিথেন গ্যাস নির্গত হবে যা কোন জানমালের ক্ষতি ছাড়াই আগুন নিভিয়ে ফেলবে। কারণ, কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস মানুষের শ্বাসরোধ করে সে ক্ষেত্রে ডাইব্রোমো ক্লোরো ফ্লোরো মিথেন গ্যাস মানুষের কোনরূপ ক্ষতি করে না । অথচ আগুন নিভাতে কার্যকরি ভূমিকা পালন করে। কোন কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসলে ভবনের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছামাত্রই তৃতীয় সুইচটি অন হবে এবং যার মাধ্যমে ভবনে সংরক্ষিত একটি ফোন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফায়ার সার্ভিসে কল যাবে এবং ঐ ফোনে ভবনের ঠিকানা থাকবে। যখন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ফোনটা রিসিভ করবে তখন তারা ঐ ভবনের ঠিকানা ও ভবনের দুর্ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরে তাদের পক্ষে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সাহায্য করবে। আর কোন ভবনে এ যন্ত্রটি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি কন্ট্রোলরুম থাকবে। যেখানে যন্ত্রের মূল অংশ থাকবে এবং সেখান থেকেই মূল ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণ করবে। মূল কন্ট্রোল রুমই যদি আগুনের সূত্রপাত হয় সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় একটি পারদ সুইচ অন হবে যার মাধ্যমে একটি সিলিন্ডারে রক্ষিত কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস বের হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন ভাণ্ডারিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ম. মহিউদ্দিন খান দিপু, কলেজের শিক্ষকদ্বয় ও উপজেলার সাংবাদিকগণ। ভাণ্ডারিয়া ইউএনও কাজী মাহবুবুর রশিদ ইত্তেফাককে জানান, পূর্ণাঙ্গরূপে এ যন্ত্রটি আবিষ্কার করে যদি বড় বড় ভবনে রাখা হয় তাহলে আগুনে আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষাসহ মানুষ উপকৃত হবে।