নূর হোসেনকে পালাতে সহায়তাকারী গ্রেফতার

আপডেট : ২৭ মে ২০১৪, ২৩:১৭
নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে পালাতে সহায়তাকারী এক ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছে। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তার নাম সম্ভবত মশিউর রহমান। যশোর বেনাপোল এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে। মশিউরের বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার শ্যামলগাছি। তার বাবার নাম সাহাদাত হোসেন। তিনি একই উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের ফেনসিডিল চোরাচালান চক্রের হোতা বাদশার অন্যমত সহযোগী। এরআগে নূর হোসেনকে পালাতে সহায়তাকারী মশিউরের সহযোগী কামাল হোসেনকে গত ১৫ মে বেনাপোল শার্শা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তার দেয়া তথ্য মতে পুলিশ গতকাল তাকে গ্রেফতার করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কামাল হোসেন কীভাবে নূর হোসেন দেশ ত্যাগ করেন তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। নূর হোসেন ১ মে সীমান্তে গিয়ে মশিউরের বাড়িতে ওঠেন। সেখানে থাকেন দু’দিন। এরপর বাদশা ও মশিউর একটি মোটর সাইকেলে করে নূর হোসেনকে রঘুনাথপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাঠিয়ে দেন। এদের সহযোগিতা করেন কামাল হোসেন। কামাল হোসেন গ্রেফতার হওয়ার পরই আত্মগোপনে চলে যান বাদশা ও মশিউর। পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে এই দুই ব্যক্তিকে। গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ মশিউর রহমানকে গ্রেফতার করে। বাদশা এখনো পলাতক আছে। ইন্টারপোলের রেড ওয়ারেন্ট নূর হোসেনের বিরুদ্ধে রেড ওয়ারেন্ট জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। ফ্রান্সভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানটি মঙ্গলবার বিকেলে তাদের ওয়ানটেড পারসনের রেড ওয়ারেন্ট পাতায় নূর হোসেনের নাম সংযুক্ত করে। নূর হোসেন বর্তমানে ভারতে পালিয়ে আছে নিশ্চিত হয়েছে র্যাব। ওয়ারেন্ট পাতায় নূর হোসেনের জন্ম তারিখ দেয়া হয়েছে ১৯৬০ সালের ১০ জানুয়ারি। জন্মস্থান নারায়ণগঞ্জ। উচ্চতা ১ দশমিক ৬১ মিটার। ওজন ৬২ কেজি। চুলের রঙ রঙিন। তার বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, অন্যায়ভাবে গুম, অপরাধ গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ নিয়ে দ্বিতীয় বারের মত নূর হোসেনের বিরুদ্ধে রেড ওয়ারেন্ট ইস্যু করলো ইন্টারপোল। এর আগে পলাতক অবস্থায় ২০০৭ সালের ১২ এপ্রিল নূর হোসেনের বিরুদ্ধে রেড ওয়ারেন্ট জারি করেছিল ইন্টারপোল। তখন ইন্টারপোল তাদের নিজস্ব ওয়েব সাইটে নূর হোসেনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, বিস্ফোরক ও প্রাণনাশের হুমকিসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছিল। ২০০৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে নূর হোসেনকে ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি দেন একজন উপদেষ্টা। এরপর ২০১১ সালের মার্চে ইন্টারপোল সে ওয়ারেন্ট তুলে নেয়। ৪টি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, নূর হোসেনের মালিকানাধীন এবিএস পরিবহনের একটি বাস থেকে ৪টি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- দুই রাউন্ড গুলিসহ ৩ টি পিস্তল, ১টি রিভলবার ও ৫ রাউন্ড শটগানের কার্তুজ। সোমবার গভীর রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল টেকপাড়া এলাকায় রাখা বাসে তল্লাশি করে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।