দক্ষিণাঞ্চলে আউশের জমি তৈরিতে ব্যস্ত কৃষক

আপডেট : ২৮ মে ২০১৪, ২২:২৭
দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরা আউশ ধানের জমি তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বিলম্ব হলেও গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে এ অঞ্চলের কৃষকরা খুশি। প্রতিদিন সামান্য করে বৃষ্টিপাত হওয়ায় কৃষকদের জন্য তা আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। তারা এখন আউশ ধানের বীজতলা ও চাষের জন্য জমি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কৃষকদের পাশাপাশি কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও চাষিদের সেবা ও পরামর্শ প্রদানের জন্য মাঠে নেমেছেন। আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণের আঞ্চলিক কার্যালয় জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে গোটা দক্ষিণাঞ্চলে আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৬২২ হেক্টর জমি। এরমধ্যে হাইব্রিড ১ হাজার ৬৪ হেক্টর, উফশী ১ লাখ ২০ হাজার ৪২২ হেক্টর ও স্থানীয় ১ লাখ ৩৬ হাজার ১৩৬ হেক্টর জমি রয়েছে। এবারের নির্ধারিত জমি থেকে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪২ টন চাল উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণাঞ্চলে সাধারণত আউশের জাত বিআর-২, ৩, ১২, ১৪, ব্রী-ধান-২৭, ৪২, ৪৩, ৪৮, বাউ-৬৩সহ বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান আবাদ করা হয়। এবার বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে খড়ায় পুড়েছে চাষাবাদের মাঠ। তবে গত তিন দিনের বর্ষায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তারা মাঠে নেমেছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এ আবাদ অব্যাহত থাকবে এবং লক্ষ্যমাত্র অর্জিত হবে বলে কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন। রোপণের ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যাবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমের আবাদ কার্যক্রম লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলেও কৃষি কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন। এ অঞ্চলের ১১ জেলায় চলতি মৌসুমে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তার মধ্যে বরিশাল জেলায় ৩৫ হাজার ৩৭৪ হেক্টর, পিরোজপুরে ২১ হাজার ৩৬ হেক্টর, ঝালকাঠিতে ১২ হাজার ৪৮১ হেক্টর, পটুয়াখালীতে ৩৯ হাজার ৭৬৪ হেক্টর, বরগুনায় ২৯ হাজার ৯৭৯ হেক্টর ও ভোলায় ৮৫ হাজার ৭১২ হেক্টর জমি রয়েছে। একইভাবে ফরিদপুরে ৯ হাজার ৬০১ হেক্টর, মাদারীপুরে ৩ হাজার ৬১১ হেক্টর, গোপালগঞ্জে ২ হাজার ৫২৮ হেক্টর, রাজবাড়ীতে ৫ হাজার ৪৬৮ হেক্টর ও শরীয়তপুরে ১২ হাজার ৬৮ হেক্টর জমি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরিশাল অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুল মুন্নাফ আহমেদ জানান, চলতি আউশ মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের ৪০ হাজার ৯৮৫ জন কৃষককে সরকারিভাবে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রত্যেককে ১০ কেজি করে নেরিকা ধানের বীজ, ৫ কেজি আউশের বীজ, ইউরিয়া সার ২০ কেজি, পিএসপি ১০ কেজি ও ডিএপি সার ১০ কেজি করে দেয়া হয়েছে।