বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এ সরকারকে পাঁচ মাস সময় দেয়া হয়েছে। বেশি সময় দেয়া হয়েছে। এদেরকে আর সময় দেয়া যায় না। সামনে আমরা ঢাকাসহ সারাদেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো। গতকাল বুধবার মুন্সীগঞ্জ শহরে হাটলক্ষ্মীগঞ্জে লঞ্চঘাট এলাকায় বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ এতদিন দেশের মানুষকে কাঁদিয়েছে। এবার তাদেরকে কাঁদতে হবে। তাদের কাঁদার সময় এসেছে। মানুষের কাছে তাদেরকে ক্ষমা চাইতে হবে। কারণ এই সরকার বা আওয়ামী লীগ যে অপরাধ করেছে সেটিকে ক্ষমা করা যায় না। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, জবরদস্তি করে ক্ষমতায় থাকা যাবে না। মানুষ যখন রাস্তায় নেমে আসবে, তখন দেশে এমন অবস্থা হবে যে আপনাদের পাশে কেউ থাকবে না। আপনাদের বলবো, অবিলম্বে নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে বিদায় নিন যাতে দেশে শান্তি, গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার, উন্নয়ন ও কল্যাণ ফিরে আসে।
খালেদা জিয়া বলেন, এই সরকার জনআতঙ্ক রোগে ভুগছে। জনগণ দেখলেই তারা ভয় পায়। তাই এ সরকার আমাদের সমাবেশ করতে দেয় না। আমরা সমাবেশ করবো। যেখানে কর্মসূচি হবে, সেখানেই যাবো, দেখি সরকার কী করে, কীভাবে বাধা দেয়। আমরা দেখাবো।
সাম্প্রতিক গুম, খুন, অপহরণ ঘটনার সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, আমি নিজেও বলতে পারি না যে, এদেশে এখন আমি নিরাপদ। দেশের কোনো মানুষই এ সরকারের হাতে নিরাপদ নয়। আমরা একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই।
সরকারের সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করে জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, এরশাদ একজন খুনি। তার বিচার করা উচিত এবং এ বিচার করা হবে।
র্যাব বিলুপ্তির বদলে সংস্কারের জন্য সুশীল সমাজসহ যারা কথা বলছেন, তাদের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এই র্যাব দিয়ে আর কোনো ভালো কাজ হবে না। তাই সংস্কার নয়, এদের বাতিলই করতে হবে। এই র্যাব গ্যাংগ্রিন-ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। তাই এদেরকে বিলুপ্ত করে প্রয়োজনে নতুন কোনো বাহিনী গঠন করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, তবে সবার সঙ্গে আলোচনা করে এটা করতে হবে, তখন ওই বাহিনীর কার্যক্রম নির্দিষ্ট থাকবে। তিনি অভিযোগ করেন, র্যাব-১ এর একজন কর্মকর্তা রয়েছেন তিনি আমাদের অনেক নেতা-কর্মীকে গুম করেছেন। এই কর্মকর্তা আমাদের এক নেতাকে স্ত্রী-সন্তানের সামনে রিকশা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করেছে, এ সময় তার শিশু সন্তানটিকে ছুঁড়ে ফেলা হয়। এটা কোন ধরনের বর্বরতা!
খালেদা জিয়া বলেন, র্যাব এখন একটি আতঙ্কের নাম। নারায়ণগঞ্জে র্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ অভিযুক্তরা ৭ জন নয়, টাকার বিনিময়ে তারা মূলত সেদিন ১১ জনকে হত্যা করেছিল। র্যাবের অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এদেরকে কোনো বেনিফিট দেয়া যাবে না। সামরিক আদালতে এদের বিচার হওয়া উচিত।
খালেদা জিয়া আরও বলেন, দেশে এখন দুর্নীতির মহোত্সব চলছে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমান কোনো ধর্মের লোকই এই সরকারের হাতে নিরাপদ নয়।
মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এবং বিএনপি নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মিজানুর রহমান সিনহা, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বরকত উল্যাহ বুলু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমান উল্যাহ আমান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, নাজিম উদ্দিন আলম, খায়রুল কবীর খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ইরাদত হোসেন মানু, শিরিন সুলতানা, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, মীর শরাফত আলী সফু, শফি বিক্রমপুরী, আলী আসগর রিপন মল্লিক প্রমুখ।
পথে-পথে শুভেচ্ছা
জনসভাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। খালেদা জিয়া দুপুর ২টায় তার গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা হন। পথে যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড মোড়, চাষাঢ়া মোড়, পঞ্চবটি মোড় ও মুক্তারপুর ব্রিজসহ বিভিন্ন স্থানে নেতা-কর্মী-সমর্থকরা রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান। বিকালে জনসভাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনও ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়।
