নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপ-নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন নাসিম ওসমানের ছোট ও শামীম ওসমানের বড় ভাই বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি সেলিম ওসমান।
জাতীয় পার্টি সেলিম ওসমানের নাম চূড়ান্ত করার পর তার পক্ষে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর আগে দুপুর ৩টা ৩৫ মিনিটে জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে দলীয় প্রার্থী হিসাবে চূড়ান্তভাবে সেলিম ওসমানের নাম ঘোষণা করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা ওমর ফারুক মোল্লা জানান, বুধবার পর্যন্ত উপনির্বাচনের জন্য ১৩ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। বুধবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা ৪ জন হলেন সেলিম ওসমানের পক্ষে খোকন সাহা, জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয়া শামীম মিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে অ্যাডভোকেট মামুন সিরাজুল মজিদ ও জিএম আরাফাত (নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।)
এর আগে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, সাবেক এমপি ও নাগরিক ঐক্যের নেতা এস এম আকরাম, জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম, ইকবাল সিদ্দিকী, বিএনএফ নেতা আবু হামিদুর রহমান ও শহীদ আহমেদ সুমন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৬ জুন। মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ২৯ মে, বাছাই ১ জুন ও মনোনয়পত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ জুন।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসিম ওসমানের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। ২৯ এপ্রিল দিবাগত রাত ১টায় ভারতের দেরাদুনের একটি ক্লিনিকে হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান নাসিম ওসমান। তিনি ১৯৮৬, ১৯৮৮, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সকল বদলি স্থগিত করেছে ইসি
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে উপ-নির্বাচন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কর্মরত সকল কর্মকর্তা, কর্মচারীর বদলি স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করার ১৫ দিন পর পর্যন্ত এ আদেশ বলবত্ থাকবে। গত সোমবার ইসির উপ-সচিব রকিব উদ্দিন মণ্ডল স্বাক্ষরিত একটি পরিপত্র জারি করে এ আদেশ দেয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৪৪(ই) ধারা অনুসারে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের পূর্বানুমতি ছাড়া ৪৪(ই) তে উল্লেখিত কর্মকর্তাবৃন্দকে স্ব স্ব কর্মস্থল থেকে বদলি করা যাবে না। ৪৪(ই) তে যেসব কর্মকর্তার কথা বলা হয়েছে, এদের মধ্যে রয়েছেন-বিভাগীয় কমিশনার, মেট্রোপলিট্রন পুলিশ কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার ও পুলিশ সুপার বা তাদের অধীনস্ত কোন জেলা, বিভাগ বা মেট্রোপলিট্রনে নিয়োজিত কোন কর্মকর্তা। এছাড়া যারা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। ইসির জারি করা ওই পরিপত্রটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, অর্থ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল দফতর এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
ওই পরিপত্রে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটপ্রদানে ইচ্ছুকদের প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রদানের জন্য ডাক বিভাগকেও নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি জেলে থাকলে বা অন্য কোনো এলাকায় থাকলে বা দেশের বাইরে অবস্থান করার সময়ে তিনি ইচ্ছা পোষণ করলে ডাকযোগে ভোট দিতে পারবেন। সেজন্য ডাক বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করে সে নিশ্চয়তা দিতে বলা হচ্ছে।
এছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের একটি প্যানেল প্রস্তুত করে আগামী ২ জুনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভোট কেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা এবং পোলিং কর্মকর্তার নিয়োগ চূড়ান্ত করতে হবে।
জাতীয় সংসদের ২০৮ নম্বর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি নারায়ণগঞ্জ থানা ও বন্দর থানা নিয়ে গঠিত। ২০১৩ সালের ৩ জুলাই এ আসনের সীমানা পুনঃনির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন। দশম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান গত ৩০ এপ্রিল মারা গেলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়। আগামী ২৬ জুন এ আসনে ভোটগ্রহণ করবে ইসি।
তদন্ত কমিটি করছে ইসি
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচনে ‘নির্বাচনপূর্ব অনিয়ম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের’ জন্য বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আইন মন্ত্রণালয়কে দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশও দিয়েছে স্বাধীন এই সংস্থাটি। ইসি সচিবালয়ের সহকারী সচিব মুহাম্মাদ মোশাররফ হোসাইনের স্বাক্ষর করা ওই নির্দেশনাটি আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে গতকাল বুধবার পাঠানো হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুসারে একজন যুগ্ম-জেলা জজ ও একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ বা সহকারী জজের সমন্বয়ে ‘নির্বাচনী তদন্ত কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাই সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সঙ্গে পরামর্শক্রমে ২ জন কর্মকর্তার নাম দ্রুত ইসিতে পাঠাতে হবে।
এদিকে এ নির্বাচনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৬ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এদের মধ্যে চারজন নির্বাহী ও দুইজন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট।
