মোদী সরকারের প্রথম পদক্ষেপ

কালো টাকার খোঁজে মাঠে নামছে বিশেষ টাস্কফোর্স

আপডেট : ২৮ মে ২০১৪, ২৩:০৭
ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় এসে তার সরকারের প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে কালো টাকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন। এ লক্ষ্যে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই বাহিনী ব্যবস্থা নিবে সেই নগদ অর্থের বিরুদ্ধে যার কোন আয়ের উত্স নেই। মঙ্গলবার নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। খবর বিবিসি ও আনন্দবাজারের। বিশেষ তদন্ত (এসআইটি) দল জব্দ করবে অপ্রদর্শিত নগদ অর্থ যার কোন তথ্য আয়কর বিবরণীতে নেই বা তার কোন কর দেয়া হয়নি। তবে এক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব পাবে বিদেশি ব্যাংকে যেসব অপ্রদর্শিত অর্থ গচ্ছিত রয়েছে। কয়েকটি তথ্য অনুসারে জানা যায়, প্রায় ৫শ’ বিলিয়ন ডলার অপ্রদর্শিত অর্থ বিদেশি ব্যাংকে জমা রয়েছে। এসব অর্থ উদ্ধারেই তারা বেশি প্রাধান্য দিবেন। বৈঠকশেষে সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় আইন ও বিচারমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, নতুন সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কালো টাকার সন্ধান বের করা। তিনি জানান, বিশেষ এই তদন্ত দলের নেতৃত্ব দেবেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এমভি শাহ এবং ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হবেন অরিজিত পাসায়াত। কালো টাকার বিষয়ে নজরদারি শুরু করতে গত সপ্তাহেই এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। ফলে আজকের মধ্যেই এসআইটি গঠন করতেই হতো। কিন্তু মোদী এ বিষয়ে এতো জরুরি পদক্ষেপ নিলেন যে যাতে মনে হয় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের থেকে তাঁর সরকারের তাগিদ অনেক বেশি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই দলটি গড়া হলেও ভোট প্রচারে কালো টাকা উদ্ধার নিয়ে লাগাতার প্রচার করেছেন মোদী। লালকৃষ্ণ আদভানি তো রথযাত্রাও করেছিলেন একই দাবিতে। তদন্তকারী দলে সামিল করা হয়েছে সিবিআই এবং আইবি’র প্রধানকে। রাখা হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেক্ট, সিবিডিটি’র চেয়ারম্যান, র-এর প্রধান, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ডেপুটি গভর্নর, ও রাজস্ব সচিবকেও। এই উচ্চপর্যায়ের তদন্তকারী দল বিদেশে কত কালো টাকা রয়েছে, সেগুলি কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায়, সে সব খতিয়ে দেখে রিপোর্ট পেশ করবে। তার ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ মেনে পদক্ষেপ করবে কেন্দ্র। তবে এ ক্ষেত্রে বড় একটি বিষয় হল বিভিন্ন রাষ্ট্রের সহযোগিতা পাওয়া। সুইজারল্যান্ডের মতো দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তথ্য দিয়েছিল। কিন্তু ভারতের সঙ্গে সেইভাবে সহযোগিতা করেনি। এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বলেন, অনেক কিছুই নির্ভর করে ভারত কী বার্তা দিচ্ছে তার উপরে। সরকার শক্তিশালী হলে ও দেশের অর্থনীতির হাল ফিরলে অন্য রাষ্ট্রও সহযোগিতা করতে বাধ্য হবে। উল্লেখ্য এই অঘোষিত অর্থকেই ভারতের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির প্রধান বাধা বলে বিবেচনা করা হয়।