মেহেরপুরের ত্রাস দুখু বাহিনী প্রধান মিনহাজ ওরফে দুখুকে ভারতে গ্রেফতার করে মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকল থানার পুলিশ। তার বাড়ি মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার ধলা গ্রামে। পশ্চিম বাংলার আনন্দবাজার পত্রিকা গতকাল বুধবার দুখু গ্রেফতারের খবর জানিয়ে বলে, ভারতে তার এক রাজনৈতিক গডফাদার জুটে যায়। তার আশ্রয়ে থেকে নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতো। ২ মাস আগে তার বাহিনীর ক্যাডার আলামিন ওরফে সুমন পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডোমকল থানার পুলিশ দুখুর সন্ধান পায়। মাওবাদীদের তালিকায় এক দুখুর নাম আছে বলে পত্রিকার খবরে বলা হয়। এ দুখু সেই দুখু কি-না তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৫ বছর আগে দুখু এক সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে মেহেরপুর জেলা জুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করে। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও মানুষ অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের মামলা রয়েছে। র্যাব-পুলিশ তার বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করলে দুখু তার বাহিনীর সদস্যসহ পালিয়ে ভারতে অবস্থান নেয়। নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলার সীমান্তবর্তী কামুড়দেয়ার এলাকায় বিয়ে করে সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যায়। তার দলের ক্যাডাররাও ভারতীয় নাগরিকদের বিয়ে করে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকে। ভারতেও তারা খুনসহ বিভিন্ন অপরাধে লিপ্ত হয়। দুখুর বিরুদ্ধে ভারতে ৪টি খুনের মামলা আছে।
সূত্র আরো জানায়, দুখু এক সময় চরমপন্থি দল পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (জনযুদ্ধ)’র সাথে যুক্ত ছিল। তখন সে মেহেরপুর এলাকায় চরমপন্থিদের সাথে চলাফেরা করত। দুখু ভারতে অবস্থান করলেও মাঝে মাঝে বাংলাদেশে এসে অপরাধ করে ভারতে পালিয়ে যেত। গত বছর মেহেরপুর সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী এক গ্রামে হানা দিয়ে এক প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ আছে। এ সময় বাধা দিলে শিশুটির নানা স্কুল শিক্ষককে হত্যা করে। গাংনী থানার ওসি রিয়াজুল ইসলাম জানান, দুখু তার বাহিনী নিয়ে ভারতে অবস্থান করছে। সেখানে বিয়েও করেছে বলে তাদের কাছে খবর আছে। দুখু সেখানকার এক বিধানসভার সদস্যের প্রশ্রয়ে ছিল।
