দেশের বিভিন্ন জেলায় গতকাল বুধবার প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড়ে কমপক্ষে ২৫টি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়েছে। এতে দু’জন নিহত, সহস্রাধিক বাড়ি-ঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত ও কয়েকশ’ ব্যক্তি আহত হয়েছে। ঝড়ে শত শত বিঘা জমির পাকা বোরো ধান, পাট, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বকশীগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, গতকাল বেলা পৌনে এগারোটায় উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের সারমারা বাজার, গোপালপুর বাজার, ধারারচর, নয়াপাড়া ও টেগেরপাড়া গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে ঘূর্ণিঝড় বয়ে যায়। এতে গ্রামের ৪ শতাধিক ঘরবাড়ি, শিক্ষা এবং ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান লণ্ডভণ্ড হয়। ঝড়ে ঘর বিধ্বস্ত হয়ে চাল মিল মালিক মাসুদ (২৮) ও কৃষক ছালু মিয়া (৫২) নামে দুই ব্যক্তি মারা গেছেন। গৃহহীন হয়েছেন প্রায় ১ হাজার মানুষ। এ সময় আহত হন কমপক্ষে ৩ শতাধিক লোক। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১০০ টন চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
নীলফামারী প্রতিনিধি ও কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, দুপুরে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই, বাহাগিলী ও চাঁদখানা ইউনিয়নের ১১টি গ্রামে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। মাত্র ১ থেকে ২ মিনিটের ঝড়েই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় ঐসব গ্রামের ৫ শতাধিক কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি। উপড়ে পড়ে শত শত ছোট-বড় গাছপালা। মাটিতে মিশে যায় শত শত বিঘা জমির পাকা বোরো ধান, পাট, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল। ঝড়ে নিতাই ইউনিয়নের বাড়িমধুপুর গ্রামের জয়নালের স্ত্রী ফজিলা ও বানিয়াপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজার রহমানের পুত্র সুরুজ মিয়া গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো হলো— স্কুলপাড়া, বেলতলি, বালাপাড়া, বানিয়াপাড়া, প্রামাণিকপাড়া, বাড়িমধুপুর, সরকারপাড়া, গুচ্ছগ্রাম, ডাঙ্গাপাড়া, কাচারীপাড়া ও মাছুয়াপাড়া। উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রেজাউল ইসলাম জানান, ঝড়ে প্রায় ২শ’ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়েছে। দুর্গত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রশিদুল ইসলাম।
পীরগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, সকালে উপজেলার পাটগ্রাম, খষ্টি ও ছোট উজিরপুর গ্রামে হঠাত্ করে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ঝড়ের তাণ্ডবে খষ্টির মণ্ডলপাড়ার ৪৩টি ও আকন্দপাড়ার ৩টি ঘর লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এছাড়া পাটগ্রামের সাঁওতাল পাড়ার ৬টি এবং পশ্চিমপাড়ার ২টি ঘর বিধ্বস্ত হয়। উপজেলা পিআইও শরফুল ইসলাম জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাত্ক্ষণিক নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি, তবে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হয়েছে।
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, সকাল সাড়ে ৯ টায় ধনবাড়ি উপজেলার মুশুদ্দি ইউনিয়নের খন্দকার পাড়া, মৌলভীপাড়া, পাগলাপাড়া, পশ্চিম পাড়া ও ঝোপনা গ্রামে টর্নেডো আঘাত হানে। এতে প্রায় তিন শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত ও অর্ধশত লোক আহত হয়েছে। পল্লী বিদ্যুত্ লাইনের ৩টি খুঁটি উপড়ে পড়েছে। এছাড়া গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, সকাল সাড়ে ৯ টায় উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। মাত্র ৩ মিনিটের মধ্যেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় গোটা এলাকা। আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ ও পশু-পাখী। এতে প্রায় ৩ শতাধিক বাড়িঘরের ক্ষতি হয়েছে। শতাধিক ঘর উড়ে গেছে। গাছপালা, বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে উপড়ে পড়েছে রাস্তায়।
সরিষাবাড়ীর ইউএনও বিলকিছ জাহান বলেন, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত অসহায় মানুষের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে দুটি মেডিক্যাল টিম ঘটনাস্থলে আহতদের চিকিত্সা দিচ্ছে বলে তিনি জানান।
মেলান্দহ (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, সকাল ১১টার দিকে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ে উপজেলার ঝাউগড়া, আদ্রা, ফুলকোচা ও শ্যামপুর ইউনিয়নের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে স্থানীয় ‘মুক্তি সংগ্রাম যাদুঘর’সহ দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়।
