পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তা বদল

আপডেট : ২৮ মে ২০১৪, ২৩:১৬
পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে বরিশাল-৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মীর মোঃ শাহজাহানকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে তাকে এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক শহীদুল আলমকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোঃ সিরাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নিয়োগ দেয়া হয়। এদিকে এই উপ-নির্বাচন নিয়ে আজ আইন-শৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। গত নয় এপ্রিল বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। ঐ আসনের উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় গত ২৮ এপ্রিল। সে সময় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নিজস্ব কর্মকর্তা মীর মোহাম্মদ শাহজাহানকে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে। নির্বাচন কমিশন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেয়া হলো। আগামী ১২ জুন এই উপ-নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে। যে অভিযোগে রিটার্নিং কর্মকর্তার অব্যাহতি এই উপ-নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনের স্ত্রী বেগম জেবুন্নেছা আফরোজ এবং বিএনএফ-এর প্রার্থী সাইফুল ইসলাম লিটন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসাইন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তার সমর্থনে এক শতাংশ ভোটারের তথ্যে গড়মিল থাকার অভিযোগে রিটার্নিং অফিসার সে মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। পরে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসাইন অভিযোগ করেন, রিটার্নিং অফিসার এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। তিনি আপিল করলে গত ২০ মে কমিশন রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে আপিলের রায় দেয়। তবে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার অভিযোগ আনেন। তিনি আপিল আদেশে তার মন্তব্য ও সুপারিশে উল্লেখ করেন, ‘উপযুক্ত রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করে উল্লেখ করা সমীচীন মনে করি যে, স্বতন্ত্র প্রার্থী (প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন যাচাই) বিধিমালা, ২০১১ এ যেভাবে স্বাক্ষর যাচাইয়ের বিধান নির্দিষ্ট করা আছে তার বাইরে গিয়ে রিটার্নিং অফিসার একজন প্রার্থীকে বিশেষ সুবিধা প্রদানের প্রয়াস গ্রহণ করেছেন। এর জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে বহাল না রাখাই সমীচীন।’ এরপরই ওই রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।