ঠাকুরগাঁও বিসিআইসির বাফার গোডাউনে জায়গা না হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার হাজার হাজার বস্তা সার। বৃষ্টি হলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বাইরে থাকা এসব সারে। তাই বিপাকে পড়েছেন বিসিআইসির ঠাকুরগাঁও অফিসের কর্মকর্তারা। প্রতিবছর এ সময় সারের স্তূপ খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকলেও গুদাম নির্মাণের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেই।
জায়গা না থাকায় খালাস করতে না পেরে কয়েক দিন ধরে গুদামের বাইরে অর্ধশতাধিক সারের ট্রাক অপেক্ষা করছে। জায়গার অভাবে গুদামের সার সংরক্ষণ করতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ। তাই বৃষ্টির জন্য মাটিতে বালুর বস্তা তার উপরে সারের বস্তা রেখে ত্রিপল টানিয়ে দেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাইরে সার পড়ে থাকায় আবহাওয়াজনিত কারণে বহু বস্তা সার কেকে (দলায়) পরিণত হয়। অভিযোগ রয়েছে, কেক হয়ে যাওয়া সার ডিলাররা নিতে না চাইলেও এসব সার ডিলারদের নিতে বাধ্য করে। ডিলাররা একইভাবে কৃষকের কাছে এই সার গছিয়ে দেন। এই সার জমিতে দেয়ায় ফসলের উত্পাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বিসিআইসি ঠাকুরগাঁও বাফার গোডাউনের ইনচার্জ আসাদুজ্জামান খান জানান, ঠাকুরগাঁও বিএডিসি কর্তৃক ২৫ বছর আগে নির্মিত ১৭ হাজার টন ধারণক্ষমতার গুদামে বর্তমানে সার আছে প্রায় সাড়ে পঁচিশ হাজার টনেরও বেশি। পর্যাপ্ত মজুদ ব্যবস্থা এবং গুদাম না থাকায় খোলা আকাশের নিচেই ফেলে রাখা হয়েছে প্রায় ২ হাজার টন সার। এ ছাড়া ডিলাররা সময়মতো সার উত্তোলনও করেন না।
সংশ্লিষ্ট ডিলাররা অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, প্রতিবছর একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও বিসিআইসি কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপই নেই। এ ছাড়া কৃষিনির্ভর এ জেলায় আরো ১০ থেকে ১৫ হাজার টন ধারণক্ষমতার সারগুদাম নির্মাণ করা জরুরি। জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ঠাকুরগাঁও খোলা আকাশের নিচে সার থাকার কারণে কৃষকরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়ে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
