বান্দরবানে চায়না থ্রি লিচু

আপডেট : ২৯ মে ২০১৪, ২১:৫৬
লিচু চাষ করে বান্দরবানে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে অনেকে। খেতে সুস্বাদু চায়না থ্রি জাতের লিচু চাষ বাড়ছে এখানে। জেলায় এবারও চায়না থ্রি’সহ দেশীয় জাতের লিচুর বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে চাষীদের মুখে। কৃষি বিভাগ জানায়, জেলার সাত উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৯৯৩ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে চায়না থ্রি জাতের লিচুসহ বিভিন্ন জাতের লিচু চাষ হয়েছে। উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার নয়শ টন ধরা হলেও কয়েকগুণ বেশি ফলন হয়েছে। পাহাড়ের মাটি ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায় তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে বান্দরবান জেলার এবারো সবচেয়ে বেশি লিচু চাষ হয়েছে। স্বল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় এখানে চায়না থ্রি জাতের লিচু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে স্থানীয় চাষীরা। পোকার আক্রমণ কম এবং খেতে বেশ সুস্বাদু হওয়ায় চায়না থ্রি জাতের লিচুর চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। পাহাড়ে উত্পাদিত লিচু জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারগুলোতে চায়না থ্রি জাতের একশ লিচু বিক্রি হচ্ছে আড়াইশ থেকে তিনশ টাকায়। স্থানীয় জাতের একশ লিচু বিক্রি হচ্ছে দুইশ থেকে আড়াই টাকায়। স্থানীয় হাট-বাজারগুলো বিভিন্ন জাতের লিচুতে ভরপুর হয়ে গেছে। প্রতিদিনই বান্দরবানের মেঘলা, শৈলপ্রাপাত, মিলনছড়ি, গোয়ালিখোলা, বালাঘাটা, গেজমনিপাড়াসহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকারি দামে লিচু কিনে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। লিচু ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, দেড়লক্ষ টাকায় চারটি লিচু বাগান কিনেছি। বাজারে বিক্রি করে মোটামুটি লাভ হচ্ছে। স্থানীয় বাজারগুলোর চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্নস্থানেও গাড়িতে করে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এবছর লিচুর আকারে বড় হয়েছে। পাহাড়ী লিচু চাষী লিরামনি তঞ্চঙ্গ্যা জানান, দেড় একর পাহাড়ী জমিতে লিচু চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছি। লিচুসহ মৌসুমি ফল বিক্রি করে আমার অভাব-অনটনের সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে। স্বল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় গ্রামের আরো কয়েকজন লিচু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের শস্য উত্পাদন বিশেষজ্ঞ আলতাফ হোসেন জানান, পাহাড়ে চায়না থ্রিসহ দেশীয় জাতের লিচু চাষ একটি লাভজনক চাষাবাদ। স্বল্প খরচে অধিক লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় চাষীরা। এবার জেলায় লিচু মোটামুটি ভালো হয়েছে।