কবি নজরুল কলেজে আছেন ৩৬ জন অতিরিক্ত শিক্ষক

আপডেট : ২৯ মে ২০১৪, ২৩:১৪
রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের চিত্র বদলগাছি কলেজ : পদ ৩৫, আছেন ১৬ জন গাবতলী কলেজ : পদ ২০, আছেন ১৩ জন শাহবাজপুর কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগে একজনও শিক্ষক নেই পুরনো ঢাকার সরকারি নজরুল কলেজ। কলেজটিতে শিক্ষকের পদ আছে ৮৪টি। আর শিক্ষকের পদ শূন্য আছে ৮টি। সে হিসাবে কলেজটিতে শিক্ষক থাকার কথা ৭৬ জন। কিন্তু ৩৬ জন শিক্ষক সংযুক্তি ও ইনসিটুর মাধ্যমে অতিরিক্ত হিসাবে রয়েছেন। এ কারণে কলেজটিতে মোট শিক্ষক রয়েছেন ১১২ জন। ইংরেজিতে একজনও শিক্ষক নেই এমন অনেক কলেজ রয়েছে উপজেলা পর্যায়ে। কিন্তু রাজধানীতে অবস্থিত হওয়ায় এই কলেজটিতে অতিরিক্ত ইংরেজি শিক্ষক রয়েছেন ৫ জন। অথচ কলেজটিতে পদ রয়েছে ৬টি। সব মিলিয়ে ইংরেজি বিভাগে রয়েছেন ১১ জন শিক্ষক। সারা দেশের সরকারি কলেজগুলোতে ইংরেজির ১৯১টি পদ শূন্য রয়েছে। ইসলামের ইতিহাসের চিত্র একই। এ বিষয়টিতে ৪টি পদের বাইরে আরো ৪ জন ‘সংযুক্তি’ নিয়ে অতিরিক্ত হিসাবে রয়েছেন। উদ্ভিদ বিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে ৪ পদের বিপরীতে ৭ জন, দর্শনে ৪ পদের বিপরীতে ৬ জন, পদার্থ বিজ্ঞানে অতিরিক্ত শিক্ষকসহ ৬ জন রয়েছেন। এভাবে প্রতিটি বিভাগেই অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছেন। ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর এই কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক ছাড়াও পড়ানো হচ্ছে ১৭টি বিষয়ের অনার্স কোর্স। কলেজের একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, প্রয়োজনের তুলনায় এই কলেজে শিক্ষকের সংখ্যা অনেক বেশি। সংযুক্তি নিয়ে এই কলেজে আসা শিক্ষকরাও ঠিকমতো আসেন না এমন অভিযোগ করেছেন কলেজের শিক্ষকরা। গ্রামের কলেজ খালি করে এভাবে নজরুল কলেজে অতিরিক্ত হিসাবে শিক্ষক নিয়ে আসার সমালোচনা করছেন সবাই। ঢাকায় থেকে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন ওই শিক্ষক, কিন্তু এর মাধ্যমে দেশের বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে, এর দায়ভার কে নেবে? কলেজটির উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, পদের চেয়ে শিক্ষক কিছু বেশি আছে। যেখানে কবি নজরুল কলেজে অতিরিক্ত শিক্ষক, সেখানে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার চিত্র এর উল্টো। নওগাঁর বদলগাছি সরকারি কলেজে ৩৫ জন শিক্ষকের মধ্যে কর্মরত আছেন ১৬ জন। রসায়নে একজন শিক্ষকও নেই। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, এভাবে কলেজ চলে না, কষ্ট করে চালাতে হয়। শিক্ষক সংকট থাকার পরও গত সপ্তাহে কুড়িগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের একজন সহকারী অধ্যাপককে ঢাকার একটি কলেজে বদলি করে আনা হয়। একইভাবে পাবনা সরকারি মহিলা কলেজের অর্থনীতির একজন সহযোগী অধ্যাপককে ঢাকার একটি কলেজে নিয়ে আসা হয়েছে। পাবনার শহীদ বুলবুল কলেজে শিক্ষকের পদ আছে ৫২টি। শূন্য আছে ১২টি। উচ্চ মাধ্যমিক থাকায় অন্য কলেজের চেয়ে এই কলেজে শিক্ষক সংকট কম বলে জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ রিজাউল ইসলাম। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একজনও শিক্ষক নেই। অথচ রাজধানীর কবি নজরুল কলেজে ১০টি পদের বাইরেও ৩ জন শিক্ষক বেশি রয়েছেন। কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা আলী বলেন, এভাবে শিক্ষকদের তুলে নিয়ে গেলে গ্রামের কলেজের কী হবে? কলেজটিতে শিক্ষক দেয়ার জন্য আমি মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে বার বার লিখেছি। তিনি বলেন, এই কলেজে শিক্ষকের পদ আছে ৪৩টি। কিন্তু শিক্ষক আছেন ২৯জন। চিলাহাটি সরকারি কলেজে শিক্ষকের পদ ২৫টি। এর মধ্যে ১৩টি পদ খালি। পঞ্চগড় সরকারি কলেজে ৬১ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪০ জন শিক্ষক। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া সরকারি মনসুর আলী কলেজে শূন্য আছে ১৬টি পদ। ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সরকারি কলেজে ৪৩টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৩৬ জন। তাতেই খুশি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুর রহমান। তার বক্তব্য হচ্ছে, আশ-পাশের অনেক কলেজের চিত্র আরো করুণ। ওই সব কলেজে এক তৃতীয়াংশ বা কোথাও অর্ধেক শিক্ষকই নেই। বগুড়ার গাবতলী কলেজে শিক্ষকের পদ ২০টি। এর মধ্যে নেই ৭ জন। কলেজটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক সরাবন তহুরা বলেন, আমাদের মতো প্রান্তিক কলেজগুলোর অবস্থা খুবই করুণ। অতিথি শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছি। শিক্ষক কম আছে প্রতিমাসেই এমন তথ্য শিক্ষা অধিদপ্তরকে জানাচ্ছি। রাজশাহী বিভাগে সরকারি ও বেসরকারি কলেজ রয়েছে ৬৫৮টি। এর মধ্যে সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ রয়েছে ৪টি, সরকারি ডিগ্রী (পাস) কলেজ ৮টি, সরকারি ডিগ্রী (অনার্স) কলেজ ১৯টি এবং মাস্টার্স পর্যায়ের সরকারি কলেজ রয়েছে ৯টি। বাকিগুলো বেসরকারি পর্যায়ের কলেজ। রংপুর বিভাগে সরকারি ও বেসরকারি কলেজ রয়েছে ৫২৬টি। এর মধ্যে সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ রয়েছে ২টি, সরকারি ডিগ্রী (পাস) কলেজ ১২টি, সরকারি ডিগ্রী (অনার্স) কলেজ ৬টি এবং মাস্টার্স পর্যায়ের সরকারি কলেজ রয়েছে ৬টি। বাকিগুলো বেসরকারি পর্যায়ের কলেজ। তথ্য অনুযায়ী, শুধু ঢাকায় নয় বিভাগীয় শহরের কলেজগুলোতেও অনেক শিক্ষক সংযুক্তি নিয়ে থাকেন।