শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিহত ৯ জনের পরিবারকে সম্মাননা

আপডেট : ২৯ মে ২০১৪, ২৩:১৪
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অনেক শান্তিরক্ষী হতাহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবসে নিহত নয় জন ও আহত এক জনের পরিবারকে সম্মাননা দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। তার কাছ থেকে সম্মাননা নেয়ার সময় নিহত ও আহতদের স্বজনেরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। স্বামী নেই, কোনদিন ফিরবেও না। কিন্তু এই সম্মাননা স্মৃতি হয়ে থাকবে। এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তারা। রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌ ও বিমান বাহিনী এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা শান্তিরক্ষী মিশনে গিয়ে সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময় অনেকে শহীদ হয়েছেন, অনেকে আহত হন। এ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর ৯৬ জন শহীদ হয়েছেন। এ ছাড়া নৌবাহিনীর ২ জন, বিমান বাহিনীর ৪ জন ও পুলিশ বাহিনীর ১৬ জনসহ মোট ১১৮ জন শহীদ হন। আহত হয়েছেন ১৬২ জন। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অকাতরে তাদের জীবন উত্সর্গ করে দিয়েছেন। তারা জীবন দিয়ে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের পতাকাকে সমুন্নত করেছেন। এ সব বীর শহীদ ও তাদের পরিবারবর্গকে রাষ্ট্রপতি আন্তরিক শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, এবার আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষী দিবস ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে উদযাপন হয়েছে। ভবিষ্যতে এ দিবসটি সকল বিভাগীয় সদরে পর্যায়ক্রমে উদযাপিত হবে। সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যসহ সকল বাংলাদেশি শান্তি রক্ষীদের বিশ্বব্যাপী শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে তাদের পেশাদারিত্ব, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা বজায় রাখার জন্য রাষ্ট্রপতি উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জামসহ বাংলাদেশের সকল শান্তিরক্ষী যাতে আরো আত্মবিশ্বাসের সাথে জাতিসংঘের আহ্বানে সাড়া দিতে পারে, সেই জন্য সরকারের সকল প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। শান্তি রক্ষী মিশনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের কার্যক্রমে জাতিসংঘ প্রশংসায় পঞ্চমুখ। এটা দেশের জন্য গৌরব বলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন। শান্তিরক্ষী মিশনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। উল্লেখ্য দেশে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সেনাবাহিনীর। যা আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীসহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভায় নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস এডমিরাল এম ফরিদ হাবিব, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল মোহাম্মদ ইনামুল বারী ও পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকারসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে সেনাবাহিনীর ৬০৮৬, নৌবাহিনীর ৪৯৫ ও বিমান বাহিনীর ৫০২ জন সদস্য এবং পুলিশ বাহিনীর ১৭৫৮ জন সদস্যসহ মোট ৮৮৪১ জন শান্তি রক্ষী মিশনে নিয়োজিত রয়েছেন। জাতিসংঘ সদর দফতরের বাইরে ৯টি দেশে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী মিশন রয়েছে। এ দেশগুলো হচ্ছে, লাইবেরিয়া, আইভরিকোস্ট, দক্ষিণ সুদান, কঙ্গো, দারফোর, পশ্চিম সাহারা, লেবানন, হাইতি ও ইটালি। এছাড়া সুদান ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকানে দ্রুত সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি কন্টিনজেন্ট যাচ্ছে। মিশনে মহিলারাও পিছিয়ে নেই। সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশসহ ২১৮ জন মহিলা সদস্য শান্তি রক্ষী মিশনে নিয়োজিত।