বেসিক ব্যাংক পর্ষদ ভেঙ্গে দেয়ার সুপারিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

আপডেট : ২৯ মে ২০১৪, ২৩:২১
দুর্নীতির অভিযোগে বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দেয়ার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বৃহস্পতিবার গভর্নর ড. আতিউর রহমানের স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে পর্ষদ না ভেঙ্গে তা পুনর্গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পর্ষদ ভেঙ্গে দেয়ার সুপারিশ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান জানান, ব্যাংক-কোম্পানি আইনে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠির একটি অনুলিপি অর্থমন্ত্রীর কাছেও দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের ঋণ বিতরণে অনিয়ম সংঘটিত হওয়ায় আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৬ ধারা অনুসারে কোনো ব্যাংকের চেয়ারম্যান বা কোনো পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী আমানতকারীদের জন্য ক্ষতিকর মনে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাকে অপসারণ করতে পারে। তবে ৪৬ (৬) উপ-ধারায় সরকার মনোনীত বা নিযুক্ত কোন চেয়ারম্যান বা পরিচালককে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অপসারণ করতে পারে না। তবে এক্ষেত্রে চেয়ারম্যান বা পরিচালকের আচরণ সম্পর্কে সরকারের নিকট প্রতিবেদন পাঠাতে পারে। তখন সরকার সেটা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে আইনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে গতকালই এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, পর্ষদ ভেঙ্গে দিলে এসব অনিয়মের দায়িত্ব কে নেবে? এজন্য পর্ষদ ভাঙ্গা হবে না। পুনর্গঠন করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা শেষে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি পেয়েছি। তা এখনো দেখা হয়নি। তবে গভর্নরের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে তিনি জানান। কবে নাগাদ পর্ষদের পুনর্গঠন করা হবে সে প্রসঙ্গে জানাতে চাইলে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই। রাষ্ট্রীয় মালিকানার বিশেষায়িত এ ব্যাংকের চার হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির ঘটনা সম্প্রতি ধরা পরে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে ব্যাংকের এমডিসহ ৬ কর্মকর্তাকে অপসারণ করা হয়েছে। আর ব্যাংকের অনিয়ম-দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে গত রবিবার ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর ব্যাংকের গুলশান, শান্তিনগর ও দিলকুশা শাখায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল প্রকার ঋণ বিতরণ কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয় গত মঙ্গলবার। মূলত এ তিন শাখাতেই ঋণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেসিক ব্যাংকের ৭ সদস্যের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদে চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত সাবেক এমপি শেখ আবদুল হাই বাচ্চু। অন্য সদস্যদের বেশিরভাগই সরকারি কর্মকর্তা। এদের মধ্যে ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশীষ বসু, বিসিকের চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদার রয়েছেন। এছাড়া রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ডিজি নীলুফার আহমেদ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কামরুন নাহার আহমেদ, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা মো. আনোয়ারুল ইসলাম ও আনিস আহমেদ নামে একজন। আর পদাধিকার বলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পর্ষদের সদস্য। আবদুল হাই বাচ্চু তিন বছরের জন্য প্রথম মেয়াদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে। মেয়াদ শেষে ২০১২ সালে তাকে ২ বছরের জন্য চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়া হয়। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।