দিল্লিতে গুরুত্ব বাড়ছে মমতার

আপডেট : ২৯ মে ২০১৪, ২৩:২২
সর্বভারতীয় রাজনীতিতে ক্রমেই আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিস্তার পানি বণ্টন এবং স্থল সীমান্ত চুক্তি ইস্যুতেও সমর্থন চাই মমতার। তাই তার সঙ্গে সংঘাত চান না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই কারণে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দলের ২ জন এমপি হলেও তাদের মন্ত্রী করেনি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে খবর, মমতার বিষয়ে ধীরে চল নীতি নিয়েছেন মোদী। তিনি চান নির্বাচনের আগে যাই হয়ে থাক না কেন ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজন হতে পারে মমতার সমর্থনেরও। বাংলাদেশের সঙ্গে সু-সম্পর্ক রাখতেও প্রয়োজন পড়বে তার। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং থেকে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সমর্থনে জিতেছেন বিজেপির এসএস আলুওয়ালিয়া। আসানসোল থেকে বাবুল সুপ্রিয়। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপির মন্ত্রী হবেন এমন আশা করেছিলেন অনেকেই। সেক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শক্তি আরো বাড়তে পারতো। কিন্তু গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার দীর্ঘদিনের দাবি রয়েছে পৃথক রাজ্য। আলুওয়ালিয়াকে মন্ত্রী করা হলে সেই দাবি আরো জোরালো হতে পারে। বাবুল সুপ্রীয়কেও মন্ত্রী করা হলে সংঘাত বাধতে পারে তৃণমূলের সঙ্গে। বিজেপির দিল্লির এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, লোকসভায় দল একক গরিষ্ঠতা পেলেও রাজ্যসভায় তাদের মাত্র ৪৬ জন এমপি রয়েছে। এনডিএ-র ৬০ জন। পক্ষান্তরে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসের রয়েছে ১২ জন এমপি। তৃণমূল লোকসভার মত রাজ্যসভায়ও চতুর্থ শক্তি। রাজ্যসভায় যে কোনো বিল পাস করাতে হলে দরকার কম পক্ষে ১২২ জন এমপির সমর্থন। সেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ যে কোনো বিল পাস করাতে হলে মমতার সমর্থন দরকার হবে বিজেপির। তিস্তা, স্থল সীমান্ত চুক্তি ইস্যুতেও মমতার সমর্থন দরকার। তা না হলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিবিড় করা সম্ভব হবে না। তাই মমতার সঙ্গে সংঘাত এড়ানোর পন্থা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আর তাই স্বাধীনতার পর এই প্রথম ভারতের মন্ত্রিসভায় নেই পশ্চিমবঙ্গের কোনো প্রতিনিধি। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিজেপির ২ জন এমপি হয়েছিল। দু’জনকেই মন্ত্রী করেছিলেন তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী।