একশ’ দিনের সূচি তৈরি করতে মোদীর নির্দেশ

আপডেট : ২৯ মে ২০১৪, ২৩:২৩
মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকেই মন্ত্রীদের আগামী ১০০ দিনের কর্মসূচী নির্দিষ্ট ছকে ফেলতে নির্দেশ দিলেন ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেছেন, লক্ষ্য পূরণ করতে দক্ষতা, বণ্টন ব্যবস্থা এবং রূপায়ণের উপরই জোর দিতে হবে। টার্গেট পূরণ করতে না পারলে মন্ত্রীদের ব্যর্থতার মাশুল দিতে হবে। গতকালের বৈঠকে প্রচলিত রীতির উল্টো পথে হেঁটে এদিন লালবাতি লাগানো গাড়ি ছাড়াই উপস্থিত হন সুষমা স্বরাজ, বেঙ্কাইয়া নাইডু, অরুণ জেটলি, স্মৃতি ইরানির মতো বেশ কয়েকজন প্রথম সারির মন্ত্রী। বৈঠকে মন্ত্রীদের ১০টি লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী একশো দিনে মন্ত্রীরা কে কী কাজ করবেন তার তালিকা তৈরির নির্দেশও দেন তিনি। জানিয়ে দেন দক্ষতা, কাজ বণ্টন ও তা রূপায়ণের ভিত্তিতেই কাজ হাসিল করার কথা। যে ১০টি লক্ষ্য তিনি স্থির করে দিয়েছেন, সেগুলি হল: আমলাতন্ত্রে আস্থা ফেরাতে হবে। আমলাদের কাজ করার স্বাধীনতা দিতে হবে ও তাদের পরামর্শ গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারি কাজে স্বচ্ছতা আনতে হবে ও কাজে গতি আনতে অনলাইন টেন্ডার ব্যবস্থায় জোর দিতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানীয় জল ব্যবস্থা ও শক্তিক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অর্থনৈতিক উন্নতির পথে সব বাধা দূর করতে হবে। পরিকাঠামোয় পরিবর্তন আনতে হবে। প্রশাসনকে আরও বেশি জনমুখী করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। সরকারি নীতিতে স্থায়িত্ব ফেরাতে হবে এবং প্রতিটি দপ্তরের মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের পার্লামেন্ট বিষয়ক মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নাইডু জানান, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের তাদের দপ্তরের প্রতিমন্ত্রীদের কাজ ভাগ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মোদী। জরুরি বিষয়গুলি নিয়ে এর পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কথা বলবেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের দিনে আঠারো ঘণ্টা কাজের লক্ষ্যমাত্রা বেধে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশন ৪ থেকে ১১ জুন : ভারতের নব-নির্বাচিত ১৬তম লোকসভার প্রথম অধিবেশন আগামী ৪ থেকে ১১ জুন অনুষ্ঠিত হবে। ভারতের নবগঠিত মন্ত্রিসভা গতকাল এ সিদ্ধান্ত নেয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলা হয় ভারতে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি লোকসভার প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু সাংবাদিকদের বলেন, অধিবেশনের প্রথম দু’দিন নব-নির্বাচিত এমপিদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং তৃতীয় দিন অর্থাত্ ৬ জুন লোকসভার নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হবে। হাউসের সবচেয়ে সিনিয়র সদস্য কংগ্রেস নেতা কমল নাথ সাময়িক স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতির কাছে তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।