সফলতা চাইলে সন্ত্রাস দুর্নীতি ছাড়ুন

আপডেট : ২৯ মে ২০১৪, ২৩:২৪
সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপির নেতৃত্বের উদ্দেশে বলেছেন, অনেক ভুল করেছেন। জনগণকে বলতে হবে-ক্ষমা করুন। এখন ভুল কমিয়ে দিন। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ছাড়ুন। তারপর জিয়াউর রহমানের আদর্শকে সামনে রেখে জনগণের কাছে যান, জনগণ পাগলের মতো ছুটে আসবে। এসব করতে পারলেই আপনাদের সাফল্য নিশ্চিত। জনগণকে জাগাতে হলে আগে নিজেদের জাগতে হবে। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও উপস্থিত ছিলেন। তিনি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি থাকলেও বসেছিলেন দর্শক সারিতে, কোনো বক্তব্য দেননি। প্রসঙ্গত, অধ্যাপক বি. চৌধুরী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ছিলেন। বিএনপি ছেড়ে তিনি বর্তমানে বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট। খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে বি. চৌধুরী বলেন, আমি নিজে দেখেছি প্রেসিডেন্ট থাকাকালে জিয়াউর রহমান একদিন আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামানকে ফোন করে বললেন ‘আমি আপনার সাথে বসতে চাই, কথা বলতে চাই, আপনি না এলে আমিই আপনার কাছে যাব’। এখন কেন এমন হয় না? এই প্রশ্নের জবাব কে দেবে? জবাব আমাদের সবাইকে দিতে হবে। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্রও নেই, রাজনীতিও নেই। একটা শূন্যতা বিরাজ করছে। এই শূন্যতা ভয়াবহ। শূন্যতা দূর না হলে নারায়ণগঞ্জ ও ফেনীর মতো ঘটনা আরও ঘটবে। সবকিছু আস্তে-আস্তে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। সভায় ১৯ দলীয় জোট শরিক এলডিপি সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, এরশাদ একজন ভিলেন। তিনি জিয়া ও মঞ্জুরকে হত্যা করেছেন। বুড়া বয়সে তার ভীমরতি ধরেছে, অল্পবয়সী মেয়েদের নিয়ে থাকেন। ‘এরশাদ ইজ দ্যা কীলার’-এই শিরোনামে আমি একটি বই লিখছি। অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজ আমরা কঠিন সময়ের মধ্যে পড়েছি। একটি অগণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক, অনির্বাচিত অবৈধ সরকার জগদ্দল পাথরের মতো আমাদের ওপর চেপে বসে আছে। একে সরাতে না পারলে গণতন্ত্র আসবে না। বিএনপির প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. আরএ গণি, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান ও ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর প্রমুখ।