রাজধানীর কল্যাণপুরের মিজান টাওয়ারে দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ভবনের বেসমেন্টের সেপটিক ট্যাংকে এই বিস্ফোরণ ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, ট্যাংকে জমে থাকা গ্যাস থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এ ঘটনায় কোন হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও রাজউক ভবনটি সিলগালা করে দিয়েছে। কাউকে ভবনে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। আজ বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল ভবনটি পরীক্ষা করে দেখবে বলে রাজউক সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে বুধবার রাতে ভবনটিতে প্রথম দফায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই সময় ৭ জন আহত হন। দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মিরপুর থানার ওসি সালাউদ্দিন জানান, দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরণের পর রাজউক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ১৪ তলা টাওয়ারটি সিলগালা করে দেয়া হয়। রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ধারণা করছে, টাওয়ারের সেপটিক ট্যাংকে আরো গ্যাস জমা হয়ে থাকতে পারে। এতে আবারো বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকেই টাওয়ারটি সিলগালা করে দেয় রাজউক। এর আগে গতকাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত টাওয়ারের বাসিন্দারা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভবন থেকে বের করে নিয়ে আসেন।
কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে মিরপুর রোডে টাওয়ারটি অবস্থিত। দুই দফা বিস্ফোরণের পর থেকে টাওয়ারের সামনে মিরপুর রোডে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। টাওয়ারের বাসিন্দা মো. কামাল জানান, বুধবারের ঘটনায় বিক্ষোভ প্রদর্শনের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা নিচে জড়ো হন; কিন্তু বিক্ষোভ শুরুর আগেই বিকালে আবারও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রচণ্ড শব্দে ভবনটি কেঁপে ওঠে। এতে ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত আবাসিক হোটেলের জানালার কাচ ভেঙ্গে গেছে।
বুধবার রাতে টাওয়ারে বিস্ফোরণের পর রাজউকের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় ভবনটি হেলে পড়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরিদর্শন শেষে রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, ভবনটি হেলে পড়েনি বা ফাটলের কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
তদন্ত কমিটি: মিজান টাওয়ারে বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) আবদুল হাইকে আহ্বায়ক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহিদ হোসেন ফারুকীকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন রাজউকের অথরাইজড কর্মকর্তা আমিনুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গোলাম রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসেন।
