পানির আশ্চার্য গুণ

আপডেট : ৩০ মে ২০১৪, ২০:২৫
ক্ষীণতনু থাকতে চান, শরীরের বাড়তি ওজন ঝেড়ে ফেলতে চান তবে বেশি করে পানি পান করুন। পানি দেহ বিপাককে উসেক দেয় এবং পেটে আনে ভরাট ভাব। ক্যালোরি ভরপুর পানির বদলে শুধুই বিশুদ্ধ পানি পান করুন। আর বেলার আহারের আগে আগে পেট ভর্তি পানি খান। বেশি পানি পান করলে বিপাক হয় উজ্জীবিত, আর গ্রামের পানি সাধারণত: ঠান্ডা থাকলে বিপাক আরও উসেক উঠে। সেই পানিকে গরম করে তুলতে শরীরকে আরও তেতে উঠতে হয়, এই প্রক্রিয়ায় শরীরের বাড়তি ক্যালোরি পোড়ে যায়। পানি উজ্জীবিত করে শরীরের শক্তিকে নিজেকে নি:শেষিত, নির্বল মনে হলে পানি পান করুন। শরীরে নিরুদন হলে ক্লান্তবোধ হয়। পর্যাপ্ত পানি পান করলে হূদযন্ত্র রক্তকে পাম্প করতে পারে আরও কার্যকরভাবে। পানি রক্তকে পর্যাপ্ত অক্সিজেন বহনে সহায়তা করে, অন্যান্য পুষ্টিকনাকে কোষে পৌঁছে দিতে সহায়তা করে থাকে। পানি পান করে চাপকে লঘু করুন মগজের টিস্যুর ৭০-৯০ শতাংশ হলো পানি। শরীরে পানি শূন্যতা হলে দেহ মন চাপ গ্রস্ত হয়। পিপাসার্ত মনে হলে ইতিমধ্যে আপনি কিছুটা পানিশূন্য হয়েছেন। তাই চাপ কম রাখার জন্য ডেসেক এক বোতল পানি রাখুন, বা সঙ্গে ছোট বোতল বহন করুন, মাঝে মধ্যে চুমুক দিয়ে পানি পান করুন। পানি পানে গড়ে উঠে পেশির টোন পানি পান করলে পেশীর খিচুনি অনেকটা রোধ হয়। হাড়ের গিটে পিচ্ছিল ভাব রাখে। শরীর সজল থাকলে, পানিপূর্ণ থাকলে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করা যায় সজোরে। ফলে ক্লান্তি আসেনা সহজে। ত্বক হয় পুরিপুষ্ট পানি শূন্য হলে মুখের চিকন রেখাও কুঞ্চন হয় স্পষ্ট এবং গভীর। পানি হলো প্রকৃতির স্বাভাবিক সৌন্দর্য প্রসাধনী। তাই পানি পান করলে ত্বক হয় সজল, পেলব, কোমল ও সজীব। মুখ মন্ডল হয় তরূণ। নিষ্কাশিত হয় ময়লা, উন্নত হয় রক্ত সংবহন ও প্রবাহ, ত্বক হয় উজ্জ্বল। পানি পান করুন নিয়মিত খাদ্যের আঁশ যেমন প্রয়োজন তেমনি পারিপাকের জন্য পানিও বড় প্রয়োজন শরীরের জন্য। পানি বর্জ্য পদার্থ গলিয়ে দেয় এবং পাচক নল দিয়ে সাবলীলভাবে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। শরীর পানিশূন্য হলে দেহ শুষে নেয় সব পানি, মলান্দ্র হয়ে পড়ে শুষ্ক এবং মল হয়ে পড়ে কঠিন। পরিণতিতে কোষ্ঠ-কাঠিন্য হতে পারে। শরীরের পানি শূন্যতায় কিডনিতে পাথরের সম্ভাবনা বাড়ে বেদনাময় কিডনি পাথুরি বাড়ছে ক্রমে ক্রমে। অনেকের ধারণা বড়-ছোট প্রায় সবাই পানি পান করছেন কম। প্রস্রাবের লবণ ও খণিজ লঘু করে পানি, এগুলোই পরে তৈরি করে কঠিন স্ফটিক, যাকে আমরা বলি পাথুরি। লঘু প্রস্রাবের কিডনি পাথুরি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তাই প্রচুর পানি পান করে হ্রাস করুন কিডনির পাথুরির ঝুঁকি। প্রচুর পানি পান করছেন তো বেশিরভাগ পূর্ণবয়স্ক লোক পর্যাপ্ত পানি পান করেন, পিপাসাই তাকে পানি পানকে নিয়ন্ত্রিত করে। তবে সঠিক কি পরিমাণ পানি পান করবেন তা নির্ভর করে দেহের আয়তন, কাজ-কর্মের পরিমাণ, আবহাওয়া ও সাধারণ স্বাস্থ্যের মান-এর উপর। ব্যায়াম করলে বা প্রচুর ঘাম হলে বেশি পানি পান প্রয়োজন হতে পারে। অধ্যাপক শুভাগত চৌধুরী পরিচালক ল্যাবরেটরী সার্ভিসেস বারডেম, ঢাকা