বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন নিজেই ক’দিন আগে বলেছেন, তারাও বিপিএল ফিক্সিং কান্ডের পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত রায়ের জন্য অধীরে অপেক্ষা করছেন। সেটা ঠিক কেন দেরী হচ্ছে, জানতে চেয়ে বিসিবি’র একটি চিঠিও দেয়ার কথা তিনি বলেছিলেন ডিসিপ্লিনারি কমিটি বরাবর।
গতকাল ট্রাইব্যুনালের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করলো, তারা দিন-তারিখ নির্দিষ্ট না করলেও খুব দ্রুত চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ রায় দেয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। অনেক সংখ্যক সাক্ষ্য- প্রমাণাদির পক্ষে নথিপত্র বিবেচনা করতে গিয়ে বিলম্ব হলেও ন্যায় একটি রায় দেয়ার ব্যাপারেও ট্রাইব্যুনাল আশাবাদী।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে ম্যাচগুলোর দিকে চোখ রাখার জন্য বিসিবি ও আইসিসি’র মধ্যে এক চুক্তি হয়। আর সেই চুক্তির ফলে আইসিসি’র দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিট (আকসু) প্রতিটি ম্যাচে তদন্ত করে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের কমপক্ষে দুটি ম্যাচ সন্দেহজনক বলে রায় দেয়। এরপর অধিকতর তদন্ত শেষে চাঞ্চল্যকরভাবে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও দেশের অন্যতম সেরা তারকা মোহাম্মদ আশরাফুলসহ কয়েকজন ক্রিকেটারের নাম বেরিয়ে আসে। এরপর দীর্ঘ গুঞ্জনের পর ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরেই আইসিসি ও বিসিবি সংবাদ সম্মেলন করে বলে ৯ জন খেলোয়াড় বা কর্মকর্তা এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত।
এরপর গত ১৪ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি ও আইন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রশীদকে ডিসিপ্লিনারি কমিটির প্রধান হিসেবে মনোনীত করে বিসিবি। পরে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেন কমিটির বাকি ১০ সদস্যকে। এরপর ১০ নভেম্বর ওই ডিসিপ্লিনারি কমিটি সাবেক বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রধান করে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। ট্রাইব্যুনালের বাকি দুই সদস্য হলেন আজমালুল হোসেন কিউসি এবং সাবেক ক্রিকেটার শাকিল কাশেম।
কয়েক দফা শুনানির পর ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক রায় ঘোষণা করেন সেই ট্রাইব্যুনাল। রায়ে বলা হয় অভিযুক্ত সেলিম চৌধুরী, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ রফিক, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের কর্মকর্তা গৌরব রাওয়াত, জাতীয় ক্রিকেটার মোশাররফ রুবেল ও মাহবুবুল আলম রবিন এবং ইংলিশ ক্রিকেটার ড্যারেন স্টিভেন্সের বিপক্ষে কোনো অভিযোগ প্রমাণ হয়নি। মোহাম্মদ আশরাফুলের ব্যাপারে কিছু বলা না হলেও তিনি নিজ মুখেই দোষ স্বীকার করেছিলেন। ফলে আশরাফুলের জন্যই পূর্ণাঙ্গ রায়ের ব্যাপারে বেশি আগ্রহ তৈরি হয়ে আছে।
