ধরা পড়েনি ঘাতকরা

আপডেট : ৩০ মে ২০১৪, ২২:৩৯
রাজধানীর মতিঝিলে ঠিকাদার ও কাফরুলে যুবলীগ কর্মী খুনের ঘটনায় গতকাল পর্যন্ত কোন ঘাতককে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে ঠিকাদার সুলতান আহমেদের হত্যাকাণ্ডে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, চাঁদা না দেয়া ও মামলা করার কারণেই চরমপন্থি গ্রুপের সদস্য আফজাল হোসেন পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে কিলার দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তাকে ধরতে পুলিশ রাজধানী ও পাবনাসহ কয়েকটি এলাকায় অভিযান শুরু করেছে। সূত্র জানায়, আফজাল হোসেন এক সময় পাবনার বেড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি চরমপন্থি গ্রুপের সদস্য। সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীর ভাইয়ের ঘনিষ্ঠজন আফজাল হোসেনও পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারী কাজের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। অপরদিকে কাফরুলে যুবলীগ কর্মী খুনের মোটিভ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময় ঠিকাদার সুলতান আহমেদের সঙ্গে কারো বিরোধ ছিল না। ঠিকাদারী কাজ নিয়ে কোন রকম ঝামেলায় পড়তে হয়নি। তবে ২০১১ সালে পাবনার বেড়া উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাত কোটি টাকার একটি ঠিকাদারী কাজ পেয়েছিলেন সুলতান আহমেদ। ঐ সময় আফজাল হোসেন তার কাছে দু’কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। আর চাঁদা না দেয়ায় আফজাল হোসেন লোকজন নিয়ে ঐ বছরই তাকে মতিঝিল এলাকা থেকে অপহরণ করেছিল। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত তত্পরতার কারণে তাদের কবল থেকে দ্রুত উদ্ধার হন সুলতান আহমেদ। এ ঘটনায় আফজাল হোসেনকে আসামি করে মতিঝিল থানায় মামলা হয়। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। তবে মামলা দায়েরের পর থেকে বিভিন্ন সময় সুলতান আহমেদকে হুমকি দেয়া হচ্ছিল। সম্প্রতি ঐ মামলায় হাজিরা দেয়ার সময় আদালত এলাকায় আফজালের সঙ্গে সুলতান আহমেদের দেখা হয়। আফজাল আবারও সুলতান আহমেদকে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিয়ে হুমকি প্রদান করে। সূত্র জানায়, এরপর থেকে সুলতান আহমেদ কাউকে না কাউকে সঙ্গে নিয়ে অফিসে আসা-যাওয়া করতেন। কিন্তু তার পরও শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী মতিঝিল থানার একজন সাব-ইন্সপেক্টর জানান, হত্যার ধরন দেখে মনে হয়, ঘাতকরা পেশাদার। দ্রুত হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলের আশপাশের দোকানদারদের দেয়া তথ্য থেকে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া দুই যুবক বেশ কয়েকবার ঘটনাস্থলের আশপাশে বিভিন্ন চায়ের দোকানে বসে থেকে এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। আর এ কারণে তারা হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুত পালাতে সক্ষম হয়। মতিঝিল বিভাগের ডিসি আশরাফুজ্জামান বলেন, বেশ কয়েকটি কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। লাশ দাফনের কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে গতকাল রাত আটটা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। সম্ভবত রাতে মামলা হতে পারে। তিনি আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে যে অভিযোগ পাওয়া গেছে সেদিকটাকেই গুরুত্ব দিয়ে খুনীদের সনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আশা করি, খুব শিগগিরই হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে। অপরদিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (পূর্ব) জাহাঙ্গীর হোসেন মাতব্বর বলেন, থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। প্রাপ্ততথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার সাইফুর রহমান বলেন, সন্দেহভাজন আফজাল হোসেনসহ কয়েকজনকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ দিকে ফাফরুলে যুবলীগ কর্মী খুনের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর মনিরুজ্জামান বলেন, কী কারণে মিজানুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মিজানুর রহমান মিরপুর-১০ এ অবস্থিত এসএম পরিবহনের সামনে চায়ের দোকান চালাতেন। পাশাপাশি একটি সমিতির ক্যাশিয়ার ছিলেন। ঐ সমিতি থেকে বিভিন্ন জনকে ঋণ দেয়া হতো। তবে টাকা লেনদেন নিয়ে কারো সঙ্গে বিরোধ হয়েছে এমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রেম ঘটিত কীনা সে ব্যাপারে কোন তথ্য নেই। বৃহস্পতিবার সকালে মতিঝিলের আরামবাগ কালভার্ট রোড এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঠিকাদার হাজী মোহাম্মদ সুলতান আহমেদ (৪২)। অপরদিকে কাফরুলের সেনপাড়া পর্বতা এলাকা থেকে ভোরে উদ্ধার করা হয় যুবলীগ কর্মী ও চা দোকানদার মিজানুর রহমানের ( ২৬) গলাকাটা লাশ।