বাঙলা কলেজে ৪৫ অতিরিক্ত শিক্ষক

আপডেট : ৩০ মে ২০১৪, ২২:৪১
খুলনা বিভাগের চিত্র তালা কলেজে গণিত ও পরিসংখ্যানে শিক্ষক নেই আমলা কলেজে পদ ১৮, শিক্ষক মাত্র ৭ মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজে মার্কেটিং বিভাগে একজন শিক্ষকও নেই রাজধানীর মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজে শিক্ষকের পদ রয়েছে ১২০টি। শূন্য আছে ৭টি পদ। সে হিসাবে কলেজটিতে শিক্ষক থাকার কথা ১১৩ জন। কিন্তু কলেজটিতে বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন ১৫৮ জন। অর্থাত্ ৪৫ জন অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছেন এই কলেজে। অথচ খুলনা বিভাগের সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষকের অভাবে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। বাঙলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এস এম মকফুর হোসেন জানিয়েছেন, কলেজটিতে ‘ইনসিট’ু (পদোন্নতির পর সংশ্লিষ্ট পদ না থাকায় পূর্বের পদে বহাল থাকা) ও সংযুক্তির (শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশে কোন কলেজে যুক্ত থাকা) মাধ্যমে ৩৮ জন শিক্ষক বেশি রয়েছেন। কলেজের একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, সংযুক্তি নিয়ে যারা এই কলেজে এসেছেন, তারা সবাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) শীর্ষ কর্তাদের প্রভাবের জোরেই এসেছেন। জানা গেছে, কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পদ আছে ১১টি। শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই বিভাগে ২টি পদ শূন্য আছে। সে হিসাবে এখানে ৯ জন শিক্ষক থাকার কথা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এখানে শিক্ষক রয়েছেন ১৬ জন। একই ভাবে বাংলা বিভাগে শিক্ষক থাকার কথা ১১ জন। কিন্তু আছেন ১৪ জন। এছাড়া আরো কয়েকটি বিভাগে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি শিক্ষক রয়েছেন কলেজটিতে। এদিকে পদের চেয়ে বেশি শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও সমপ্রতি সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপককে বাঙলা কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে প্রেষণে নিয়োজিত থাকা উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপককে চলতি সপ্তাহে এই কলেজেই সংযুক্ত করা হয়েছে। এভাবে প্রতিনিয়তই বাড়ছে অতিরিক্ত শিক্ষকের সংখ্যা। এই কলেজ থেকে কাউকে বদলি করা হলে, তাকে সাধারণত ঢাকার কোন কলেজেই বদলি করা হয়। ফলে ঢাকার কলেজগুলোতে অতিরিক্ত শিক্ষক বাড়ছেই। অন্যদিকে খুলনা বিভাগের সরকারি কলেজগুলোতে তীব্র শিক্ষক সংকট রয়েছে। সাতক্ষীরার সরকারি তালা কলেজে শিক্ষক কম থাকায় বিপাকে পড়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল মালেক। কলেজটিতে শিক্ষকের পদ আছে ৪৪টি। কিন্তু শিক্ষক আছেন ২৫ জন। গণিত ও পরিসংখ্যানে একজন শিক্ষকও নেই। এছাড়া ইংরেজিতে ৪টি পদ থাকলেও শিক্ষক আছেন মাত্র ১ জন। একই ভাবে বাংলায় ৪টি পদের বিপরীতে শিক্ষক আছেন মাত্র ১ জন। আমলা সরকারি কলেজে শিক্ষকের পদ আছে ১৮টি। কিন্তু শিক্ষক আছেন মাত্র ৭ জন। এখানে শিক্ষক সংকট এতটাই প্রকট যে শিক্ষকের অভাবে ক্লাসও বন্ধ রাখতে হয়। বর্তমানে শিক্ষক সংকট থাকায় কলেজে পদার্থ, রসায়ন, বায়োলজি ও গণিতের ক্লাস বন্ধ রয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকের ক্লাস শুরু হবে ১ জুলাই থেকে। ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের কে পড়াবে এ নিয়ে শংকার মধ্যে রয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। খুলনার মজিদ মেমোরিয়াল সরকারি সিটি কলেজে ৪৩ শিক্ষকের পদ থাকলেও শিক্ষক কম আছেন ৯ জন। কলেজে মার্কেটিং বিভাগে একজন শিক্ষকও নেই। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গুলশান আরা বেগম বলেন, মার্কেটিংয়ে শিক্ষক না থাকায় বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুকান্ত মন্ডল জানিয়েছেন, কলেজটিতে শিক্ষকের পদ আছে ৬৫টি। পদ শূন্য আছে ১৫টি। তবে ৮ হাজার শিক্ষার্থীর এই ক্যাম্পাসে ১৫ জন শিক্ষক কম থাকার পরও তিনি অসন্তুষ্ট নন। তিনি জানান, প্রতি বিভাগে ২ জন করে শিক্ষক রয়েছেন কলেজে। খুলনার সরকারি কে সি কলেজে শিক্ষকের পদ আছে ৮৪টি। তবে পদের চেয়ে ১৮ জন শিক্ষক কম আছেন। অধ্যক্ষ অধ্যাপক রিজাউল করিম বলেন, তিন মাস পূর্বে ঢাকায় একটি সভায় জানানো হয়েছিল, ঢাকায় ৭শ’ শিক্ষক সংযুক্ত আছেন। এই সব শিক্ষকদের ঢাকার বাইরের বিভিন্ন কলেজে পাঠানো হলে শিক্ষক সমস্যা কিছুটা হলেও সমাধান হতো। ঝিনাইদহের শৈলকুপা সরকারি কলেজে শিক্ষকের পদ আছে ১৬টি। এর মধ্যে ৩ জন শিক্ষক নেই। পদার্থ বিজ্ঞানে ১ জন শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু চলতি মাসে তাকে ঢাকার উত্তরার একটি কলেজে বদলি করে আনা হয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছে কলেজ প্রশাসন। উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম বলেন, এখন কীভাবে পদার্থ বিষয়টির ক্লাস নেয়া হবে এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। তিনি বলেন, এমনিতেই কলেজে শিক্ষকের পদ কম। এর মধ্যে যদি ঢাকায় শিক্ষকদের নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে গ্রামের কলেজগুলোর কী হবে! তিনি এই প্রতিবেদককে আরো বলেন, একটু বেশি করে লিখুন, যাতে আমাদের সমস্যার সমাধান হয়। বিভাগের উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন কলেজের একাধিক অধ্যক্ষ ও শিক্ষক জানিয়েছেন, এভাবে গ্রামের কলেজগুলো শূন্য করে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরে শিক্ষক আনার পেছনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির শীর্ষ কর্তারা দায়ী। তাদের অফিস আদেশেই শিক্ষকরা সংযুক্তি নিয়ে ঢাকায় চলে যাচ্ছেন। কলেজের কোন বিষয়ে একজন শিক্ষক থাকলেও তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটা শিক্ষার মানের জন্য বড় বাধা। এ অবস্থা চলতে থাকলে কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার মান ধ্বংস হয়ে যাবে।