দুর্গাপুরে হপার পোকা আমচাষিরা দিশাহারা

আপডেট : ৩০ মে ২০১৪, ২২:৪২
রাজশাহীর দুর্গাপুরে আম বাগানে হপার পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এ পোকার আক্রমণের ফলে আম পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পোকার আক্রমণ থেকে আম রক্ষায় প্রতিষেধক সেপ্র করেও কাজ হচ্ছে না। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন আম চাষিরা। কৃষি সমপ্রসারণ অফিস সূত্র জানায়, দুর্গাপুর উপজেলার প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। আম চাষ লাভজনক হওয়ায় সকল পতিত, ভিটা ও সমতল জমিতে আম বাগান করছে কৃষকরা। উপজেলার গোপালপুর গ্রামের আম চাষি শমসের আলী বলেন, তিনি চারটি আম বাগানের ১৩৮টি আমগাছ পাঁচ বছরের জন্য ৫৫ লাখ টাকায় লিজ নিয়েছেন। গত বছর হপার আক্রমণে ১৩৮টি গাছের প্রায় তিনশ’ মণ আম পচে গিয়েছিল। গত বছর প্রায় ২০ লাখ টাকার আম বিক্রি করার কথা থাকলেও হপার পোকার আক্রমণের কারণে শেষ পর্যন্ত ১২ লাখ টাকার আম বিক্রি করতে পারেন। এবারও মৌসুমের প্রথম থেকেই হপারের আক্রমণ ঠেকাতে চারবার কীটনাশক সেপ্র করেছেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হচ্ছে না। শেষ পর্যায়ে এসে বাগানে হপার পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। পৌরসভার সিংগা গ্রামের আম বাগানের মালিক মকবুল হোসেন বলেন, তার তিন বিঘা জমিতে ৬৬টি আমগাছ রয়েছে। তিনি প্রতিবছর পাকার আগে আম পেড়ে পাইকারি বাজারে বিক্রি করেন। দুই বছর আগে তিনি তিন লাখ ৪০ হাজার টাকার আম বিক্রি করেন। গত বছর হপার পোকার আক্রমণ হওয়ায় মাত্র এক লাখ ১৬ হাজার টাকার আম বিক্রি করেন। এবারো বাগানে হপার পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছে। বারবার ওষুধ সেপ্র করেও পোকা দমন করতে পারছেন না। তবে বহরমপুর গ্রামের আম চাষি আমজাদ হোসেন বলেন, হপার পোকার আক্রমণ ঠেকাতে তিনি গত বছর আম বিক্রির পরে গাছের পোকা আক্রান্ত ডালগুলো ভেঙ্গে ও কেটে ফেলেছিলেন। চলতি মৌসুমে আমের মুকুল আসার পূর্বে সাইপারমেথ্রিন ওষুধ সেপ্র করেন। এছাড়া আম গাছের গোড়ায় নিয়মিত পানি সেচ দিয়েছেন। ফলে তার বাগানে হপার পোকার আক্রমণ হয়নি। স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জায়দুর রহমান বলেন, এবার বৃষ্টি না হওয়ায় হপার পোকার আক্রমণ বেড়েছে। হপার পোকার আক্রমণ ঠেকাতে আম চাষিদের তারা কীটনাশক সেপ্র করার পরামর্শ দিচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামছুল হক বলেন, আবহাওয়ার কারণে পোকার আক্রমণ দেখা দিতে পারে। ভারি বৃষ্টিপাত হলে পোকা মরে যাবে।