চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে সংসদীয় কমিটি কাল আলোচনায় বসবে

আপডেট : ৩০ মে ২০১৪, ২২:৪৩
চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি আজ শনিবার চট্টগ্রাম যাচ্ছে। সামপ্রতিক সময়ে বন্দরের বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা, ইকুইপমেন্ট ক্রয়ে অনিয়ম, অপ্রয়োজনীয় বিনিয়োগসহ চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন ও গতিশীল করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবে বলে জানা যায়। বর্তমান সরকারের সময় এই প্রথম নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে আসছে। গত এপ্রিল মাসে সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠকেই চট্টগ্রাম বন্দরের ইকুইপমেন্ট ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে অন্য একটি সংস্থা যে ইকুইপমেন্ট প্রায় ৫ কোটি টাকায় ক্রয় করেছে প্রায় অনুরূপ ইকুইপমেন্ট চট্টগ্রাম বন্দর ২০ কোটি টাকায় ক্রয় করার কার্যাদেশ দেয়া নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সংসদীয় কমিটি আগামীকাল রবিবার বন্দর ব্যবহারকারীদের সাথেও বৈঠক করবে। এছাড়া বন্দর কর্তৃক ইতিমধ্যে নেয়া প্রকল্পসমূহ পরিদর্শন করবে এবং বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে সার্বিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করবে। বন্দরের সবচেয়ে আলোচিত নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ইকুইপমেন্ট ক্রয় নিয়ে সংসদীয় কমিটি ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সৃষ্ট দ্বিমুখী অবস্থান নিয়েও আলোচনা হবে। দীর্ঘ ৭ বছর পূর্বে এনসিটি’র নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও এনসিটি এখনও পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা সম্ভব হয়নি। বন্দর ব্যবহারকারীরা বারবার দাবি করার পরও কে বা কারা এটিকে পরিচালনা করবে তা নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে আটকে আছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ এনসিটি’র জন্য প্রায় ১২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬১টি ইকুইপমেন্ট কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু এপ্রিলে সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠকে ইকুইপমেন্ট ক্রয়ের ব্যাপারে আপত্তি তোলা হয়। সংসদীয় কমিটির মতে, যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এনসিটি পরিচালনা করবে তারাই নিজস্ব অর্থ ব্যয়ে ইকুইপমেন্ট ক্রয় করবে। বিশাল অংকের টাকা ব্যয়ে বন্দরের ইকুইপমেন্ট ক্রয় করার প্রয়োজন নেই। এরপরও গত কিছুদিন পূর্বে বন্দর কর্তৃপক্ষ এনসিটি’র জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৪শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬টি গ্র্যান্ট্রিক্রেন কেনার দরপত্র আহবান করে। কিন্তু কয়েকদিনের মাথায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পত্র দিলে দরপত্র স্থগিত করা হয়।