আত্মত্যাগী এবং মহান সাংবাদিক

আপডেট : ৩১ মে ২০১৪, ১৯:৩৬
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সাংবাদিক জগতে অবিস্মরণীয় নাম। যিনি ইত্তেফাক পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া উচ্চ শিক্ষিত হয়েও সবচেয়ে দুঃসাহসিক পেশা সাংবাদিকতা বেছে নিয়েছিলেন। তত্কালীন সময়ে তিনি বিলেতে গিয়ে ভালো চাকরি করে জীবনটাকে সুন্দরভাবে উপভোগ করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তাঁর নিজের কাছে দায়বদ্ধতার ছিল সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করা। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের জন্য তিনি হাতে কলম ধরেছিলেন। তিনি তাঁর পত্রিকায় প্রকাশ করতে লাগলেন গণমানুষের দুঃখ, যন্ত্রণা, স্বপ্ন, নিপীড়িত, নির্যাতিত হওয়ার কথা। পশ্চিম পাকিস্তান তাই তাকে বন্দি করে রেখেছিল জেলে। তখন তার সংসার ছিল, তার সন্তান ছিল। তবুও তিনি মানসিকভাবে দমে যাননি। অটল আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাসী মানুষ ছিলেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া। তিনি বিশ্বাস করতেন সূর্যকে কোনো কিছু দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না। সূর্যের সামনে যেমন মেঘ আসে, ঠিক কিছুক্ষণ পরে মেঘ কেটে যায়। সূর্য আবার নতুন উদ্যমে আলোকিত করে সারা বিশ্ব। তিনি ভাবতেন তিনি একদিন মুক্তি পাবেন, আবার গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা লিখবেন। কোনো আত্মদানই বৃথা যায় না। তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন। কলম হাতে নিয়ে আবার পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণের কথা, নির্যাতরের কথা লিখেছেন। সবসময় তার পাশে ছিলেন গণমানুষের অবিসংবাদিত নেতা বাংলার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পশ্চিম পাকিস্তান যখন শেখ মুজিবকে জেলে বন্দি করে রাখত, তখন তিনি ছুটে যেতেন এই আত্মত্যাগীর সাথে দেখা করতে। কোনো কিছুর ভয়ে কোনো কিছুর লোভে তার কলম থেমে থাকেনি। ঠিক নদীর মতো প্রবাহমান ছিল তার কলম। নদীর যে রকম স্বপ্ন দেখে সমুদ্রে মিলিত হওয়ার। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার স্বপ্ন ছিল এই গণমানুষের বাঁচার অধিকার ফিরিয়ে আনার। তাঁর স্বপ্ন ছিল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের। তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া বিশ্বাস করতেন সাংবাদিকতা হলো একটি শিল্পের মতো। আর এটি হলো একটি দীর্ঘ ভ্রমণ। একদিন দুইদিন ঝড় বৃষ্টিতে ভিতু হওয়ার কিছুই নেই। উত্পীড়ন, উপেক্ষা, অবহেলা এইগুলো হচ্ছে একজন পথিকের নতুন স্বপ্নে পথ হাঁটার প্রেরণা। ঠিক এইরকম প্রেরণা নিয়েই তিনি সামনে এগিয়ে গিয়েছিলেন। সত্যের পথে, সুন্দরের পথে, অবিচল নীতিতে তিনি হেঁটে গিয়েছেন। তার চলা নদীর মতো প্রবাহমান ছিল। তিনি নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের আদর্শ পুরুষ। সাংবাদিক জগতে একজন বিপ্লবী সাংবাদিক বলা যায় তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে। তিনি স্বপ্ন দেখতেন একদিন সাংবাদিকরা লেখার স্বাধীনতা, গণমানুষের স্বাধীনতা ফিরে পাবে। সাংবাদিকরা বাংলার মানুষের স্বপ্ন, অধিকারের কথা, নির্যাতনের কথা লিখবেন। তিনি বিশ্বাস করতেন স্বাধীনতা মানে শুধু নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ফিরে পাওয়া নয়, ফিরে পাওয়া নিজের সংস্কৃতি, বিলুপ্ত করা শোষক শ্রেণী, প্রতিষ্ঠা করা গণমানুষের মৌলিক অধিকার। আগামী ১ জুন বাংলাদেশের সাংবাদিকতা জগতে পুরোধা ব্যক্তিত্ব তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিনটাকে সামনে রেখে আমাদের সবাইকে শপথ নিতে হবে কোনো অন্যায়, কোনো অত্যাচারের কাছে কখনও মাথা নত করব না। প্রতিষ্ঠা করব স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ। জয় বাংলা, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।