মানিক মিয়া
গুলশান আরা
মা হাজেরার কলেজ ছেঁড়া
চাঁদের কণা খানিক
দাদী জানে আদর করে,
ডাকেন তারে মানিক।
মানিক মিয়া সত্যি মানিক
নয়তো মুখের কথা
কর্মগুণে রেখে গেছেন
নামের সার্থকতা।
তফাজ্জলের তোফা লেখায়
গণতন্ত্র জেতা
মোসাফিরের কলাম পড়ে
‘বিলাই বেজার’ নেতা!
দেশের কথা—দশের কথা
বলতে দিলেন ডাক
আলোকিত জীবন গড়ায়
গড়লেন ‘ইত্তেফাক’।
ইত্তেফাকের পাতা ভরা
মুক্তচিন্তা ফল
তারই মাঝে আছেন বেঁচে
মানিক—তফাজ্জল।
===
তুমি চলে গেলে
নেছার আহমেদ নেছার
তুমি চলে গেলে বহুদিন বহুযুগ আগে
রেখে গেলে অজস্র স্মৃতি
তোমার স্মৃতিতে অম্লান দৈনিক ইত্তেফাক।
জৈষ্ঠ্যের প্রচণ্ড গরমের মাঝেও
তোমার বিরহ বিষাদে ভরে উঠে অগণিত প্রাণ;
সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে
যে আলো জ্বাললে তুমি এই বাংলায়,
আলোকিত হলো চারিপাশ।
হে কৃতিমান—
আমার সমস্ত সত্তার অনুভবে
শুধু তোমাকে তোমাকে অনুভবে মহা-
জাগতিক রূপ আমি দেখেছি,
তাই অনুপ্রেরণার শিহরণ পাই প্রতিদিন।
পূর্ববঙ্গের দারিদ্র্য, অশিক্ষিত গণমানুষের জীবনচিত্র
বদলে দিতে—তুমি কত স্বপ্ন দেখেছিলে,
তোমার লেখনীর স্বর্ণালি হরফে—তাই চিরকাল
অমর হয়ে থাক্।
তুমি নাই বলে কি হলো!!
তোমার পথের দিশা তোমার স্বপ্নপ্রেরণা
চিরকাল বয়ে যাবে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, সুরমার
কলতানে—তোমার অনুপস্থিতির শূন্যতায় আজও
আলোকিত স্বপ্নগুলো কেবলি তাড়িয়ে বেড়ায়;
যে স্বপ্নগুলো বহুকাল আগে তুমি দেখেছিলে।
তোমার আত্মার দোয়া আজ বড় বেশি প্রয়োজন;
কেননা তোমারেই স্বপ্নপ্রেরণায় সেই পূর্ববঙ্গ হলো
আজ বহু ত্যাগের অর্জিত এই বাংলাদেশ;
পার্থিব চোখে দেখেও গেলে না স্বপ্নের বাংলাদেশ
অনেক আগেই যে তুমি চলে গেলে।
===
মানিক মিয়া
ওয়াহিদ আল আমান
প্রত্যেক দিন সকালে ঘুম থেকে ওঠে
দরজা খুলেই দেখি ইত্তেফাক,
তার শিরোনামে লেখা আছে
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া
নাম নয়; একটি ইতিহাস।
যেমন আমাদের প্রধান সড়কের নাম
মানিক মিয়া এভিনিউ
অফিসে যেতে পড়ে তার কলামের নামে বাড়ি
মোসাফির। কাকরাইলের গর্ব।
এ বাড়িতে যখন কেউ আসত না,
তখন অতিথি হয়ে থাকতেন
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ,
কেউ তাঁকে চিনল না
কত গভীর ভালোবাসা-আর যন্ত্রণাময় জীবন
বিলিয়ে দিলেন
আমাদের জাতি সত্তার বিনির্মাণে
আমরা স্বার্থপর নই বলেই
এখনও পাঠ করে চলেছি—
ইত্তেফাক—মানিকের আদর্শ
আর শহীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা।
===
স্মরণীয়
দ্বীন মোহাম্মদ সাজু
ইত্তেফাকটা পড়তে মজা
সত্ আদর্শের দ্বারা
তাকিয়ে থাকি আসবে কখন
প্রিয় পাঠক যারা।
বাহন হয়ে আসবে উড়ে,
গণমানুষের মতো।
সৃষ্টি করলেন তফাজ্জল হোসেন
মুক্ত দ্বারার পথ।
বীর সাহসী অটল সৈনিক
যত আসল গুলি তায়।
ঢাল ছিল তার মেধার তৈরি
বিঁধত না তার গায়।
মুগ্ধ হতেন পাঠক যারা
লেখা দেখে তার
হূদয় নিংড়ানো ভালোবাসা
তারই উপহার
অস্ত্র তাহার ছিল কলম
লিখতেন তিনি একা।
ইতিহাস করল জায়গা
দিয়ে তাহার লেখা।
সংগ্রাম ছিল দূর করিতে
অন্যায় অত্যাচার।
স্বাধীন দেশে থাকবে সবার
সত্ অধিকার।
সত্যের সন্ধান মানব সেবা
করছ যে দিন রাত।
পরিশেষে কামনা করি
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার
রুহের মাগফেরাত।
===
মানিক মিয়া
মো. আব্দুল মান্নান
নামটি তোমার মানিক মিয়া
অন্ধকারের বাতি,
ঢাকা শহরে তোমার নামে
আছে অনেক স্মৃতি।
তুমি গেছ জগত্ ছেড়ে
রেখে গেছ স্মৃতি
আজকে মোরা তোমায় নিয়ে
গর্ব করি অতি।
তুমি ছিলে জ্ঞানের প্রদীপ
পূর্ণ চাঁদের আলো
ইত্তেফাকের খবর যেন,
তোমার জন্য ভালো।
সোনার মতন লেখা তোমার
রূপার মতন মুখ,
জ্ঞানের আলো বিলিয়ে দিবে
থাকবে না’ক চুপ।
সবাই বলে তুমি ছিলে
মস্তবড় জ্ঞানী
ধন্য হোক, পূর্ণ হোক,
মহান তোমার বাণী।
পরোপকারী আত্মা তোমার
জান্নাত বাসী হোক
এই কামনা করে আমি
শেষে করিলাম শ্লোক।
===
শতাব্দীর মহীরূহ
ইবনে আবদুর রহমান
বিশ শতকে ধরার বুকে অনেক খেলা চলে,
অনেক লোকে মনের শোকে পরপারে যায়;
অনেক জাতির, মস্ত হাতির দুঃখের কথা বলে,
সারা বিশ্বের ইতিহাসের পাতায় পাতায়।
ক্ষোভ-হতাশা, লোভ দুরাশা সকল দেশের ভালে,
সকল রাজ্য, সব সাম্রাজ্যে হাপিত্যেশে ভোগে,
উল্কাবেগে হূদ-আবেগে সেই না আঁধার কালে,
কতক মানুষ উড়ায় ফানুস স্বীয় কর্মযোগে।
বিশ শতকের সেই কতকের মানিক মিয়া এক—
অন্যতম। বাঙালিদের বিবেক-কণ্ঠস্বর;
সবাই তাকে কাছে ডাকে বাহির কি-বা ঘর
তার স্মরণে গর্ব করে প্রত্যহ-প্রত্যেক।
মানিক মিয়া! স্তব্ধ হিয়া; আর পাবো না খুঁজে
ভাবতে গেলে দুঃখ-শোকে চক্ষু আসে বুজে\
===
স্বপ্ন বণিক
ইকবাল মাহফুজ
তোমায় চিনেছি চাঁদেরও আগে
পদ্ম রাগে-
তোমার ছবি!
কিংবা তিমির আঁধার ছিঁড়ে
হূদ গগনে মুক্ত রবি।
তোমায় দেখার আগে
ফোটেনি পলাশ-কৃষ্ণচূড়া বাগে।
তোমায় চিনেছি পথের ভিড়ে
তোমায় ঘিরে—
আলোর নাচন—
রোদের ডানায়
চাঁদের মুকুট!
তোমায় মানায়।
তোমায় চিনেছি পত্রছায়ায়
অবুঝ মায়ায়
ঠিক বহমান স্রোতস্বিনী
স্বপ্ন বণিক!
তোমার কাছে আমরা ঋণী।
===
চির ভাস্বর সাংবাদিক
মনসুর জোয়ারদার
মাথার উপরে থাকা আকাশী ভরসা
তেমনি করেই পাওয়া প্রেরণার উত্স,
তিনি যে বাংলাদেশের সাংবাদিক ক্ষেত্রে
ইতিহাস রচনার অগ্রণী সাঠক
তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া।
বিশ্বের ঘনবসতি খ্যাত দেশটির
গণমানুসের আমা-আকাঙ্ক্ষার কথা
বলিষ্ঠভাবে ছাপার সোচ্চারেই তিনি
স্বদেশের সীমা পার হয়ে বিদেশেও
অশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন।
চলমান জীবনের এ ক্রান্তিলগ্নেও
সাবলীল যুক্তি আর শাণিত লেখনে
সাহসী ভূমিকা পালন করার মাঝে
দিক-নির্দেশনা দেবার কাণ্ডারী রূপে
থাকবেন মানিক মিয়া চিরস্মরণীয়।
