চীনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ চীন সাগর ‘অস্থিতিশীল’ করার অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেল। তিনি বলেন, চীনের কর্মকাণ্ড ঐ অঞ্চলটির দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির জন্য হুমকি। শনিবার সিঙ্গাপুরে শুরু হওয়া সাংগ্রি-লা সংলাপে হেগেল দাবি করেন, সামপ্রতিক মাসগুলোতে দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর নিজের দাবি প্রতিষ্ঠার একতরফা তত্পরতার মাধ্যমে চীন ঐ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। এসময় দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে চীনের তেল রিগ স্থাপন এবং দুটি দ্বীপে ফিলিপাইনের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। হেগেল বলেন, ‘সামপ্রতিক সময়ে চীন দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত অঞ্চলে অধিকারের দাবিতে একতরফা বলপ্রয়োগ করছে। যে কোন দেশের এমন একতরফা ভীতি প্রদর্শন, বলপ্রয়োগ এবং নিজস্ব দাবি চাপিয়ে দেয়ার প্রবণতাকে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি।’
হেগেল বলেন, ‘ঐ অঞ্চলে চীনসহ সকল দেশের সামনেই দুটো সুযোগ রয়েছে। এক, একতাবদ্ধ হয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা। দুই, আক্রমণাত্মক হয়ে দেশের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।’ তিনি চীনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা হলে যুক্তরাষ্ট্র নীরব ভূমিকা পালন করবে না।
সিঙ্গাপুরের ঐ বাত্সরিক এই নিরাপত্তা সম্মেলনে এশিয়ার অন্যান্য দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সেনা কর্মকর্তা, কূটনীতিবিদ এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরাও অংশ নিয়েছেন। চীনের উচ্চপর্যায়ের সামরিক প্রতিনিধি দলও এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী সংকট নিরসনে জাপানের ‘শান্তিপূর্ণ ও কার্যকর’ পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত চীনা প্রতিনিধি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের কার্যক্রমের নিন্দা করেন। তিনি বলেন, মি. অ্যাবে জাপানের প্রতিরক্ষা মজবুত করার স্বার্থে চীনের ব্যাপারে ‘রূপকথার আতঙ্ক’ সৃষ্টি করছেন।
উল্লেখ্য, ব্রুনাই, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, ফিলিপাইন, ভিয়েতনামসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ দক্ষিণ চীন সাগর নিজেদের অধিকারের দাবি করে আসলেও বেইজিংয়ের সামপ্রতিক তত্পরতার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে ম্যানিলা ও হ্যানয়।
