ভারতের সদ্য বিদায়ী কংগ্রেস সরকারের আমলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শঙ্কর মেনন নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ভারতের নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি আফগানিস্তান সম্পর্কেও মোদীকে জানান। শুক্রবার শিব শঙ্কর মেননের সঙ্গে বৈঠক করেন মোদী । বৈঠকে ভারতের জন্য বাংলাদেশি মৌলবাদীদের হুমকির বিষয়ে আলোচনা হয়।
গত ২৬ মে শিব শঙ্কর মেনন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ থেকে বিদায় নেন। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন অজিত কুমার দোবাল। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, মোদী আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশে ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি কিংবা সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। বাংলাদেশ সম্পর্কে মেনন প্রধানমন্ত্রীকে জানান, বাংলাদেশে সন্ত্রাসী দল এবং মৌলবাদীরা শেখ হাসিনা সরকার এবং ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে কাজ করছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার ক্ষেত্রে মেনন শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে গত চার বছর ধরে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনাই সর্বপ্রথম ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানান। আর মোদীও শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীর শপথের দু’দিন আগে আফগানিস্তানে ভারতীয় কনস্যুলেট অফিসে হামলা হয়। ফলে বিদেশে ভারতের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরো বাড়ে। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে ভারতীয় সম্পত্তি, কূটনীতিক এবং কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার প্রতি হুমকি আছে বলে মেনন জানান মোদীকে। কনস্যুলেট অফিসে হামলার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তান ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়াবেকে দায়ী করে। যুক্তরাষ্ট্র ভারত এবং আফগান সরকারকেও এ তথ্য জানিয়েছে। এই সংগঠনটি এর আগেও আফগানিস্তানে ভারতীয় কূটনৈতিক মিশনে হামলা চালিয়েছে। উল্লেখ্য, আফগানিস্তানের পূণর্গঠনে ভারত দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা দিয়েছে। সূত্র জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ দিকে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করা হলে আরো সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা করছে সরকার। আর এ পরিস্থিতিতে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহনের চিন্তা করছে সরকার। এমন উদ্বেগও আছে, আফগানিস্তানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি অংশ যদি শক্তিশালী হয় তাহলে ভারত শাসিত জম্মু ও কাশ্মীরেও হামলা হতে পারে।
