পাবনা আতাইকুলা থানার পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের পুষ্পপাড়া নামক স্থানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সুলতান হোসেন (৪০), ফজলু (৩৫) ও ছালাম মিয়া (৩৮) নামের তিন জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রতিবাদে রাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েত করা হয়েছে। অন্যদিকে, মাদারীপুরের টেকেরহাটে মাদ্রাসা শিক্ষক আবুল বাশারসহ (৪৫) দুই জনকে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি রিভলবার ও একটি চাপাতি উদ্ধার করেছে।
আমাদের পাবনা প্রতিনিধি জানান, গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুষ্পপাড়া বাজারে হত্যার ঘটনা ঘটে। সুলতান, ছালাম ও ফজলু তাদের আরো কয়েকজন বন্ধুমিলে ২টি মোটর সাইকেলে পুষ্পপাড়া বাজারে যাচ্ছিল। বাজারের কাছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। এসময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে সুলতান, ফজলু ও ছালাম নিহত হন। আরো ২ জন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। নিহতরা হলেন- পাবনা সদর উপজেলার ধর্মগ্রামের কামাল শিকদারের ছেলে সুলতান, সাদেক প্রামানিকের ছেলে ফজলু ও আতাইকুলার পীরগাছা গ্রামের আফছারের ছেলে ছালাম।
পুলিশ সূত্র জানায়, নিহতরা আতাইকুলায় ‘স্থানীয় বাহিনী’ নামে একটি নতুন চরমপন্থী সংগঠনের সদস্য। এদের মধ্যে সুলতানের বিরুদ্ধে আতাইকুলা থানায় দুইটি হত্যা মামলা রয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, হামলাকারীরা চরমপন্থি সংগঠনের সদস্য। দলের মধ্যে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য নিয়ে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
পাবনা পুলিশ সুপার মেরাজুল ইসলাম বলেন, ধারণা করা হচ্ছে নিষিদ্ধ সংগঠন পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির কোন গ্রুপ এ হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে।
এ ব্যাপারে পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রাসেল আলী মাসুদ বলেন, নিহতরা আওয়ামী লীগের সমর্থক। তবে তাদের সাথে চরমপন্থী সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কারা তাদের হত্যা করেছে তা এখনো জানা যায়নি।
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকরাম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পূর্ব বিরোধের কোন কারণে এই হত্যাকাণ্ডটি হতে পারে।
এদিকে মাদারীপুরের টেকেরহাট বন্দরের মিল্কভিটা রোড এলাকায় শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের গুলিতে এক মাদ্রাসা শিক্ষক ও এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, টেকেরহাট মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আবুল বাশার (৪৫) একটি ভ্যানযোগে টেকেরহাট বন্দর থেকে বাসার দিকে ফিরছিলেন। দুর্বৃত্তরা গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিল্কভিটা রোড এলাকায় হামলা চালায়। এ সময় আবুল বাশার ও ভ্যানচালককে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হলে দুই জনই গুলিবিদ্ধ হয়। সন্ত্রাসীরা মৃত্যু নিশ্চিত করতে দুই জনকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুর্বৃত্তরা টেকেরহাট আবাসিক এলাকার দিকে পালিয়ে যায়। এ সময় তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ভ্যানচালকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। গুরুতর আহত অবস্থায় মাদ্রাসা শিক্ষক আবুল বাশারকে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নিহত আবুল বাশারের বাড়ি পাশের গোপালগঞ্জের সালথা এলাকায় এবং ভ্যানচালকের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার আবু বকর সিদ্দিক জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে।
