বিজিবি সদস্য হত্যার বিচার ও গুলিবর্ষণের তদন্ত দাবি

আপডেট : ৩১ মে ২০১৪, ২৩:০৯
বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) সদস্য নায়েক মিজানুর রহমানকে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি) কর্তৃক হত্যা ও সীমান্তে তিনদিন ধরে অব্যাহত গুলিবর্ষণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। গতকাল শনিবার সকালে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিউ মিন্ট থানকে আবার তলব করে প্রতিবাদপত্র হস্তান্তর করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বি-পাক্ষিক) মোস্তফা কামাল। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মিয়ামনমারের রাষ্ট্রদূতকে প্রথম তলব করা হয়েছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল জানায়, বিজিপির বিনা উস্কানিতে সীমান্তে গুলিবর্ষণ ও বিজিবি সদস্য মিজানুর রহমানকে হত্যার প্রতিবাদে রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়। শিগগিরই সীমান্তে গুলিবর্ষণ বন্ধের ও ৩০ মে বিকাল সোয়া তিনটায় বিনা কারণে গুলিবর্ষণের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে রাষ্ট্রদূতকে আহ্বান জানানো হয়। রাষ্ট্রদূত এ ব্যাপারে সরকারকে আশ্বস্ত করেন যে, তিনি তার সরকারের কাছে বিষয়টি দ্রুত তুলে ধরবেন। রাষ্ট্রদূতকে বলা হয়, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ৫২ নম্বর পিলারের কাছে নিহত মিজানুর রহমানের মরদেহ চিহ্নিত করার সময়ও বিজিপি সদস্যরা অতর্কিতে গুলি চালায়। ১৯৮০ সালে সম্পাদিত বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্ত চুক্তি ভঙ্গ করে সীমান্তে সেনা সদস্যদের মোতায়েন করেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ পক্ষ অবিলম্বে সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানায়। এদিকে মিয়ানমারে বাংলাদেশের দূতাবাস সেদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কড়া প্রতিবাদপত্র পেশ করেছে। এতে নায়েক মিজানুর রহমানকে হত্যার ঘটনা তদন্ত এবং দুই দেশের প্রতিবেশীসুলভ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে প্রভাব ফেলে এমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। গতকাল সকালে তলব করা মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, আগামী ৯ থেকে ১৪ জুন বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের মিয়ানমার সফরের সময় সীমান্ত সংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলী সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার আসন্ন সফরকে সুপ্রতিবেশীসুলভ দৃষ্টিতে ফেলতে চায় এবং তখন সীমান্তে শান্তি স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতি হবে। এছাড়া ১৮ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।