হ লি উ ড

‘গ্র্যাজুয়েট’ সুন্দরী

আপডেট : ০১ জুন ২০১৪, ২০:০১
স্নাতক সম্পন্ন করা? এ আর এমন কি? আমাদের চারপাশেই তো হরহামেশা দেখা মিলছে হাজারো স্নাতকদের। আর ইউরোপ-আমেরিকার কোন দেশে এটা তো ডালভাত! তবে যখন শুনবেন, পেশার খাতিরে বছরের প্রায় পুরোটা সময়ই ঘুরে বেড়াতে হয় দেশ-দেশান্তরে, ছুটতে হয় মাইলের পর, এরপরেও নির্দিস্ট সময়ে সব পরিক্ষায় ঠিকঠাই উের শেষ পর্যন্ত স্নাতক সম্পন্ন করা; তখন নিশ্চয়ই আর ব্যাপারটা এত সহজ মনে হবে না! ঠিক সেই ব্যাপারটাই ঘটেছে এমা ওয়াটসনের ক্ষেত্রে। হলিউডের ইতিহাসে অন্যতম ব্যবসাসফল ছবি হ্যারি পটার সিরিজে বদৌলতে মাত্র দশ বছর বয়সেই সুপারস্টার বনে যাওয়া এমা যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে গত সপ্তাহে সম্পন্ন করেছেন তার স্নাতক শ্রেণির লেখাপড়া। আর এই ‘দুঃসাহসিক’ কাজটি শেষ করার পর এমা জানালেন, কেবললেখাপড়ার প্রতি নিরন্তর ভালবাসার ফলেই সম্ভব হয়েছে এটি। এমার পাঁচ বছর বয়সে তার পিতা-মাতার বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও তাদের পড়ুয়া মানসিকতাটা থেকে যায় এমার মধ্যে। গত মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত নতুন ছবি নোয়া দিয়ে নতুন করে আলোচনায় আসা এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার বাবা-মার লেখাপড়ার প্রতি ছিল দারুন আগ্রহ। তারা আমার অভিনয় শিল্পীর পেশাকে খুব স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলেন। তাই নিরুত্সাহের বদলে তারা বরং আমাকে সাহায্য করতে থাকেন (লেখাপড়ার ক্ষেত্রে)। তাছাড়া কঠোর পরিশ্রমের শিক্ষাও আমি তাদের কাছ থেকেই পেয়েছি।’ শিক্ষা জীবনের শুরুটা সমস্যাবিহীনভাবে শুরু হলেও হ্যারি পটার পাল্টে দেয় সবকিছু। মাত্র দশ বছর বয়সে হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফারস স্টোন ছবিটি করার পরেই বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যাও শুরু হয় এমার। তবে শক্ত হাতেই সেই সমস্যার রাশ টানেন মোহময়ী এই অভিনেত্রী। একপর্যায়ে ছবির প্রযোজক প্রতিষ্ঠান ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সাথে দ্বন্দেও জড়াতে বাধ্য হন এমা। সাফ জানিয়ে দেন, যদি ইউনিভার্সিটিতে যেতে না দেয়া হয়, তাহলে হারমায়োনি চরিত্রে নতুন কাউকে খুঁজতে হবে তাদের। শেষ পর্যন্ত ওয়ার্নার ব্রাদার্স মেনে নেয় এমার কথাই। দুর্দান্ত অভিনয় প্রতিভার গুনে তাদের সেই আস্থার প্রতিদানও অবশ্য দেন তিনি। আর পড়ালেখার প্রতি নিজের নিখাদ নিবেদনের প্রতিদানটাও পেয়ে গেলেন হাতেনাতেই। শতাধিক সহপাঠীর সাথে সেদিন ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ সমাবর্তনে স্নাতক সম্মান পাওয়ার পর চিত্কার করে জানালেন নিজের উচ্ছ্বাসের কথা, ‘আমি এখন একজন গ্রাজুয়েট!’