ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ-সুবিধা

আপডেট : ০১ জুন ২০১৪, ২১:৫৬
বিষয়টি এতদিন গোপন রাখা ছিল। কিন্তু তথ্য জানার অধিকারের আইনের ভিত্তিতে দায়ের করা সামপ্রতিক এক আবেদনের উত্তরে প্রকাশ হয়ে গেছে ১২১ কোটির দেশের দণ্ডমুন্ডের কর্তা মাসিক মাইনে পান ১ লাখ ৬০ হাজার রুপি। সমপ্রতি প্রকাশিত রিপোর্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বেতন ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার বিস্তারিত তালিকা দেয়া হয়েছে। মনমোহন সিং পেতেন এই বেতন ভাতা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও পাবেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক বেতন ৫০ হাজার রুপি। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ব্যয়নিয়ন্ত্রক ভাতা হিসেবে ৩ হাজার রুপি, দৈনন্দিন ভাতা (মাসিক) ৬২ হাজার এবং এমপি ভাতা ৪৫ হাজার রুপি। এ গেল নগদের হিসেব। তাছাড়াও কিছু সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন দেশের শাসন ক্ষমতার শীর্ষে থাকা মানুষটি। এর মধ্যে প্রথমেই তার নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পায়ে হেঁটে, নিজস্ব গাড়িতে, রেল বা আকাশপথে প্রধানমন্ত্রী যেখানেই যান, তাঁকে ঘিরে থাকে নিশ্ছিদ্র এসপিজি বলয়। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের আদলেই তালিম দেয়া হয় এসপিজি জওয়ানদের। এছাড়া ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসস্থান দিল্লির ৭ রেসকোর্স রোডের বাগানঘেরা প্রাসাদোপম বাড়ি তো আছেই। সরকারি খাতায় এর নাম পঞ্চবটি। তবে শুধু বসবাস করার জন্যই নয়, এই বাড়িতেই নানা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও রাজনৈতিক বৈঠকও সারেন প্রধানমন্ত্রী। দিল্লিতে ১২ একর জমির উপর মোট ৫টি বাংলো (বাংলো নম্বর ১, ৩, ৫,৭ ও ৯) নিয়ে আশির দশকে তৈরি হয় এই বাড়িটি। এর মধ্যে একটিতে অতিথি নিবাস এবং একটি বাংলোয় এসপিজির ঘাঁটি। বাকি বাংলোগুলে প্রধানমন্ত্রী তার প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করে থাকেন। ৭ রেসকোর্স রোড সংলগ্ন এলাকার আকাশপথে উড্ডয়ন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিকটস্থ বহুতল হোটেল সম্রাটের শীর্ষতম চারটি তলা ভাড়া দেয়া নিষেধ। এগুলো নিরাপত্তার খাতিরে সরকার অধিগ্রহণ করেছে। যাতায়াতের জন্য প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সালে তৈরি ২টি কালো রঙের বিএমডব্লিউ সেভেন সিরিজ সেলুন ব্যবহার করেন। গাড়ি দু’টি আপাদমস্তক বি-৭ লেভেল নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মোড়া। যে কোনও ক্ষেপণাস্ত্র, গ্যাস আক্রমণ ও বোমা নিরোধক গাড়ি দু’টিতে অত্যাধুনিক মানের যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। গাড়িগুলোর তেলের ট্যাঙ্ক দু’টিও বিশেষভাবে সুরক্ষিত। দুর্ঘটনার কবলে পড়লেও তাতে বিস্ফোরণ হবে না। এ দু’টি ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহারের জন্যে রয়েছে আরও চারটি বিএমডব্লিউ। এর মধ্যে দু’টি অতিথিদের জন্য এবং আরও দু’টি গাড়ি দেশে যেখানে প্রধানমন্ত্রী সফর করেন সেখানেই উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এসপিজিদের জন্য রয়েছে পাঁচটি অত্যন্ত সুরক্ষিত বিএমডব্লিউ এক্স-৫ গাড়ি। এছাড়া আকাশপথে যাতায়াতের জন্য রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব বিমান এয়ার ইন্ডিয়া ওয়ান। এয়ার ইন্ডিয়ার জিম্মায় এরকম ৫টি বিমান শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহারের জন্য মজুদ রয়েছে। প্রতিটি বিমানের ভিতর রয়েছে একটি বিলাসবহুল স্যুট, একটি শোওয়ার ঘর, একটি লাউঞ্জ এবং ৬ জন বসার মতো একটি অফিস। বিমানটিতে অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট ফোনের ব্যবস্থা রয়েছে। বিমানের জ্বালানি থেকে পানীয় জল, সমস্ত কিছুই পরীক্ষা করে দেখে নিরাপত্তাবাহিনী।