সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের খোলপেটুয়া নদীর ভেড়িবাঁধের ৩টি পয়েন্টে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে প্রবল স্রোত ও সেই সাথে জোয়ারের আঁচড়ে পড়া পানিতে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ভেড়িবাঁধ। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও এলাকাবাসির আশংকা জরুরি ভিত্তিতে ভাঙ্গন কবলিত ভেড়িবাঁধের ঐ ৩টি পয়েন্ট মেরামত না করলে যে মুহূর্তে প্রতাপনগর ও পার্শ্ববর্তী শ্রীউলা ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে।
রবিবার সরেজমিনে আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের খোলপেটুয়া নদীর ৩টি পয়েন্টে দেখতে গেলে হিজলাকোলা গ্রামের রফিকুল ইসলাম, আজিজুল ইসলাম ও মাওলানা ইয়াহিয়া হোসেন অভিযোগ করেন, প্রায় এক মাস আগে থেকে ভেড়িবাঁধের হিজলাকোলা, সুভদ্রকাটি ও চাকলায় ভাঙ্গন দেখা দেয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তারা জানান, প্রাথমিকভাবে যখন ভেড়িবাঁধ ভাঙ্গা শুরু হয়েছিলো তখন যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হতো তাহলে এতো বেশি ভাঙ্গতো না। তাছাড়া গত এক সপ্তাহ ধরে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এতে এখন নদীতে জোয়ার বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রবল স্রোত এবং সেই সাথে বাতাসে ঢেউ বইছে। ফলে ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ৩টি পয়েন্টে কমপক্ষে ১৫ থেকে ১৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে যখন ঐ ৩টি পয়েন্টে ভাঙ্গন দেখা দেয় তখন পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিলো।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতাপনগর ইউনিয়নের খোলপেটুয়া নদীর ৩টি পয়েন্টে ভাঙ্গন এতো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তা তাকে কেউ বলেনি। তিনি বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান কিছুদিন আগে আমাকে জানিয়েছিলেন সামান্য ভাঙ্গনের কথা। তবে আশাশুনি উপজেলার খোলপেটুয়া নদীর আরো কিছু এলাকাতেও ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। বর্তমান কোনো বরাদ্দ হাতে নেই। এ ব্যাপারে ২ কোটি ৮৮ লাখ টাকার একটি বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো হয়েছে সেটি ছাড় করলেই কাজ শুরু হবে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান বলেন, ভাঙ্গন কবলিত ভেড়িবাঁধ দ্রুত মেরামতের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
