গৃহস্থালী বর্জ্যের বায়োগ্যাসে রান্না চলে ৩০ পরিবারের

আপডেট : ০১ জুন ২০১৪, ২২:০৮
গাইবান্ধা শহরের বানিয়ারজান এলাকার গৃহিণী রোকসানা পারভীন (৪০)। তার মাসিক জ্বালানি খরচ লাগতো এক হাজার ৬০০ টাকা। কিন্তু এখন মাত্র মাসিক ৬০০ টাকায় পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস ব্যবহার করে সেই জ্বালানির কাজ সমাধান করছেন। রোকসানা পারভীন বলেন, দৈনিক পাঁচ ঘন্টা বায়োগ্যাস সরবরাহ পাই। তা দিয়ে ছয় সদস্যের তিনবেলার রান্নার কাজ হয়ে যায়। ফলে প্রতিমাসে আমার একহাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে। রোকসানার মতো ঐ এলাকার ৩০ জন গৃহিণী গাইবান্ধার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ছিন্নমূল মহিলা সমিতির উদ্যোগে উত্পাদিত বায়োগ্যাস ব্যবহার করে এখন জ্বালানির খরচের টাকা সাশ্রয় করছেন। সমিতি সূত্র জানায়, ২০১১ সাল থেকে বায়োগ্যাস উত্পাদন করা হচ্ছে। প্রতিদিন গাইবান্ধা শহরের এক হাজার তিনটি পরিবারের কাছ থেকে দেড় হাজার কেজি বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। বর্তমানে ১৭ জন কর্মী বায়োগ্যাস উত্পাদনে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সহজে পচনশীল এক হাজার কেজি বর্জ্য বাছাই করে বায়োগ্যাস উত্পাদন কূপে দেয়া হয়। কূপে রাখা বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে প্রতিদিন এক হাজার কেজি বর্জ্য থেকে ৩০ কিউবিক মিটার বায়োগ্যাস উত্পাদন করা হচ্ছে। এই গ্যাস দুই কি.মি. এলাকাজুড়ে ৩০টি পরিবারের মধ্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। গাইবান্ধা পৌরসভা ও প্রাকটিক্যাল এ্যাকশন বাংলাদেশ এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করছে। বায়োগ্যাস ব্যবহারকারী বানিয়ারজান এলাকার মোরশেদা বেগম (৩৫) বলেন, সিলিন্ডার গ্যাস কেনার সামর্থ্য ছিলো না। তাই খড়ি কিনে রান্না করতে হয়েছে। ছয়মাস ধরে বায়োগ্যাস ব্যবহার করছি। অথচ আগে এত কম খরচে গ্যাস ব্যবহারের কথা ভাবতে পারিনি। একই এলাকার গৃহিণী জাহানারা বেগম, মমেনা খাতুন ও শামীম আরা একই ধরনের মন্তব্য করেন। গাইবান্ধা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড (বানিয়ারজান) কাউন্সিলর আজাহার আলী বলেন, বর্তমানে প্রতিটি মাঝারি গ্যাস সিলিন্ডার এক হাজার ৬০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু অনেকের গ্যাস কেনার সামর্থ নেই। এ ক্ষেত্রে বায়োগ্যাস উত্পাদন জ্বালানি সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখছে। গাইবান্ধা পৌর মেয়র শামছুল আলম বলেন, বায়োগ্যাস ব্যবহারে শুধু জ্বালানি খরচই সাশ্রয় হচ্ছে না, শহরও আবর্জনা মুক্ত থাকছে। তিনি বলেন, পৌরসভা প্রতিদিনের গৃহস্থালী বর্জ্য সংগ্রহ করে একটি জায়গায় স্তূপ করে রাখত। এতে পরিবেশ নষ্ট ও বেশি জায়গার প্রয়োজন হতো। এই প্রকল্প চালু হওয়ায় গৃহস্থালী বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবহার হচ্ছে। ছিন্নমূল মহিলা সমিতির নির্বাহী পরিচালক মুর্শীদুর রহমান খান বলেন, দেশের পৌরসভাগুলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনেকটা পিছিয়ে। এই প্রক্রিয়া কাজে লাগিয়ে সামাজিক ব্যবসা হিসাবে পৌরসভাগুলোতে বায়োগ্যাস ও জৈব সার উত্পাদন করা যেতে পারে। এই বায়োগ্যাস পরিবেশবান্ধব। তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে গোটা শহরে বায়োগ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।