আলো ঝলমল রাজধানী

আপডেট : ০১ জুন ২০১৪, ২৩:০৫
ঢাকা যে কখন চোখের সামনে তিলোত্তমা হয়ে উঠলো বুঝতেই পারলাম না—বলছিলেন ধানমন্ডির বাসিন্দা মুফাখখার হোসেন চৌধুরী। এই তো দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও ঢাকায় হঠাত্ প্রাইভেট কার চোখে পড়তো, আর এখন! গাড়ির ভিড়ে রাস্তায় চলা দায়। কিন্তু আমাদের প্রাণের এই শহর যে সুন্দর নগরী হয়ে উঠছে এটা রাতে না বেরোলে বোঝা যায় না। সত্যিই তাই! রাতের ঢাকা যেন ঝলমল করে ওঠে রঙিন আলোয়। বিশেষ করে ফ্লাইওভারগুলো যেন এক অনিন্দ্যসুন্দর রূপ নিয়ে হাজির হয় নগরবাসীর কাছে। আর হাতির ঝিলের আলোর বিন্যাস যেন ‘হঠাত্ আলোর ঝলকানি’ হয়ে দেখা দেয় নগরবাসীর মনে। ৪০০ বছরের পুরানো এ শহর এখন পুরানো ঢাকা আর নতুন ঢাকায় যেন আলাদা দুটি ভাগ। পুরানো ঢাকায় এখনো সেই বনেদিয়ানা। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রেখেছেন সেখানকার বাসিন্দারা। পুরানো ভবনগুলো এখনো সব উধাও হয়নি। নতুন আধুনিক ভবনের ফাঁকে ফাঁকে উকি দেয় এতিহ্যের ধারক প্রাচীন ডিজাইনের বাড়িগুলো। কিন্তু নতুন ঢাকা যেন আধুনিক শহরগুলোর মতই আকাশ ছুঁতে চাইছে। ফলে খোলা আকাশ ঢেকে ফেলছে উঁচু ভবনগুলো। সেই কংক্রিটের শহরে একটু খোলা জায়গায় আনন্দের উপলক্ষ খুঁজে নিতে কে না চায়! ঘর ছেড়ে বেরিয়ে খোলা জায়গায় আড্ডা দেয়ার মজাই আলাদা—বলছিলেন বেসরকারি অফিসে কর্মরত তানিয়া ইমরোজ। তিনি বললেন, বৃহস্পতিবার অফিসের পর রাতে বাসায় না ঢুকে স্বামী-বাচ্চার সঙ্গে সব বন্ধুরা দল বেঁধে বেরিয়ে পড়ি। কেউ গাড়িতে, কেউ মোটর সাইকেলে। যত বড় গ্রুপ তত মজা। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরি। হাতির ঝিল, ফ্লাইওভার ঘুরে কোন রেস্টুরেন্টে বসে খেয়ে তারপর বাসায় ফিরি। রাতের ঢাকা এখন অনেক সুন্দর হয়েছে। ব্যস্ত এই নগরীতে মানুষের বিনোদনের স্থান খুবই কম। রেস্টুরেন্টে বসে আড্ডা দেয়া ছাড়া ব্যস্ত এক্সিকিউটিভদের আর জায়গা কোথায়। কিন্তু ঢাকার রূপ বদলে যাওয়ার পরে মানুষের মাঝে ঘুরে বেড়ানোর যেন নতুন উপকরণ এসে হাজির হয়েছে। এদিকে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার অন্যদিকে, কুড়িল-বিশ্বরোড ফ্লাইওভার, মিরপুর বিমানবন্দর সড়ক ফ্লাইওভার, হাতির ঝিল, সংসদ ভবন, চন্দ্রিমা উদ্যান, সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের শিখা চিরন্তনের পাদদেশ — বিনোদন প্রত্যাশী মানুষের কাছে যেন নতুন দিগন্ত নিয়ে হাজির হয়েছে। ধানমন্ডির ৮ নম্বর ব্রিজের পাশে এপার থেকে ওপারে যাওয়ার জন্য বানানো হয়েছে ফুটওভার ব্রিজ। সন্ধ্যার পর থেকেই এসব স্থানে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। দল বেঁধে আড্ডা, মোবাইলে ছবি তোলায় জমজমাট হয়ে থাকে গভীর রাত পর্যন্ত। সৌন্দর্যের ছোঁয়া লেগেছে সড়ক, ফুটপাত, সড়ক বিভাজক এবং সড়কদ্বীপেও। সড়কদ্বীপে গাছপালা লাগিয়ে সেগুলোর আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এছাড়া এসব এলাকার ট্রাফিক সাইন, রোড মার্কিং ও সড়কদ্বীপে রঙ লাগানো হয়েছে। সড়ক বিভাজকের ভেতরে লাগানো হয়েছে দৃষ্টিনন্দন দেশি-বিদেশি গাছ। শুধু তাই নয়, এখন শহরজুড়ে বিনোদনের কেন্দ্রও কম নয়। চিত্র শিল্প প্রদর্শনীর গ্যালারি, বিভিন্ন মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মানুষের আনাগোনায় জমে ওঠে প্রাঙ্গণ। সব মিলিয়ে সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা হয়ে ওঠে উত্সবের নগরী।