রাজধানী বাদে ঢাকা বিভাগের চিত্র
বরহামগঞ্জ কলেজের পদার্থ বিদ্যা, নাগরপুর কলেজের ইংরেজি ও প্রাণিবিজ্ঞান, মেলান্দহ কলেজের হিসাব বিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগ শিক্ষকশূন্য
রাজধানীর ঢাকা কলেজে সব মিলিয়ে শিক্ষকের পদ রয়েছে ১৯৭টি। আর শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য মতে কলেজটিতে শূন্য পদ আছে ১৯টি। সে হিসাবে কলেজটিতে শিক্ষক থাকার কথা ১৭৮ জন; কিন্তু কলেজে শিক্ষক রয়েছেন ২২৯ জন। সে হিসাবে কলেজে অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছেন ৫১ জন। তবে অধিদপ্তর দাবি করেছে, ঢাকা কলেজে সংযুক্ত আছেন ৪০ জন শিক্ষক, যারা অতিরিক্ত শিক্ষক হিসাবে রয়েছেন।
ঢাকা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আকবর হোসেন বলেছেন, কলেজে স্থায়ী ও অস্থায়ী শিক্ষকের পদ আছে। প্রতিদিন নতুন শিক্ষক সংযুক্ত হয়ে আসছেন। আবার কেউ চলে যাচ্ছেন। এ কারণে শিক্ষকের প্রকৃত হিসাব রাখা কঠিন। তবে একাধিক শিক্ষক বলেছেন, প্রয়োজন নেই এমন অনেক শিক্ষক রয়েছেন। বসারও ব্যবস্থা নেই সবার। এমনকি ক্লাসও নিতে হয় না অনেক শিক্ষককে। এর মধ্যে বাংলায় ৭ জন, ইতিহাসে ২, ইরেজিতে ৪, দর্শনে ৩, অর্থনীতিতে ৩, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ২, পদার্থে ৩, প্রাণী বিজ্ঞানে ৩, উদ্ভিদ বিজ্ঞানে ১, পরিসংখ্যানে ৩ ও হিসাব বিজ্ঞানে ৪ জন শিক্ষক রয়েছেন।
সোহরাওয়ার্দী কলেজে ২৫ শিক্ষক বেশি: রাজধানীর আরেকটি সরকারি কলেজ-শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ। পুরনো ঢাকায় অবস্থিত এ কলেজটিতে মূল পদের বাইরে সংযুক্ত আছেন অতিরিক্ত ২৫ জন শিক্ষক। উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগে শিক্ষক রয়েছেন ৮ জন করে। কলেজে অধ্যাপকের ৪টি, সরকারি অধ্যাপক ১৬টি, সহযোগী অধ্যাপক ১৭টি এবং ৩৫টি প্রভাষকের পদ রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ১ জন, ভূগোলে ৪ জন, দর্শনে ৪ জন, প্রাণী ও উদ্ভিদ বিদ্যায় ৩ জন করে এবং ইসলামের ইতিহাসে ৪ জন অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছেন।
কলেজের এক অধ্যাপক জানিয়েছেন, কলেজটিতে কে কখন আসেন, তার হিসাব রাখার সুযোগও নেই। কোন জবাবদিহিতাও নেই। উচ্চ পর্যায়ের তদ্বিরের জোরে আসায় এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতেও পারছে না কলেজ প্রশাসন।
ঢাকা বিভাগের কয়েকটি কলেজে উল্টো চিত্র: মাদারীপুরের বরহামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষকের পদ ২৯টি। আছেন ১৯ জন। পদার্থ বিদ্যায় একজনও শিক্ষক নেই। অথচ ঢাকা কলেজে অতিরিক্ত তিন জন পদার্থ বিদ্যার শিক্ষক রয়েছেন। দীর্ঘ ৬ মাস ধরে কলেজটিতে এই পদ শূন্য আছে। রসায়নের শিক্ষকরা পদার্থ বিদ্যা পড়ান। ৩ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে কলেজটি। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক তোতা মিয়া বলেন, পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়টি নিয়ে বিপাকে পড়েছি। এ নিয়ে বারবার মন্ত্রণালয়ে লিখেছি; কিন্তু কোন কাজ হয়নি। তিনি বলেন, বাধ্য হয়ে রসায়ন বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে পদার্থ বিজ্ঞান ক্লাস দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, রসায়নেও একজন মাত্র শিক্ষক রয়েছেন। ইংরেজি ও বায়োলজির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। একজন করে শিক্ষক দিয়েই ক্লাস পরিচালনা করতে হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের নাগরপুর সরকারি কলেজে শিক্ষকের পদ ৩৫টি। আছেন ২৫ জন শিক্ষক। ইংরেজি ও প্রাণী বিজ্ঞানে ১ জন শিক্ষকও নেই। অথচ সোহরাওয়ার্দী কলেজে প্রাণী বিজ্ঞানে ৩ জন অতিরিক্ত শিক্ষক আছেন। টাঙ্গাইলের এই কলেজটিতে ব্যবস্থাপনা বিভাগে আছেন মাত্র ১ জন শিক্ষক। উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাসির উদ্দিন বলেন, কষ্ট করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।
জামালপুরের মেলান্দহ কলেজে ১৭টি শিক্ষকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে হিসাব বিজ্ঞানে ১ জন শিক্ষকও নেই। অর্থনীতিতে ৪টি শিক্ষকের পদ আছে; কিন্তু নেই একজনও। ইসলামের ইতিহাসে রয়েছেন ১ জন শিক্ষক। অধ্যক্ষ আব্দুল জলিল বলেন, গ্রাম থেকে শহরের কলেজগুলোতে শিক্ষকদের উঠিয়ে নেয়া হচ্ছে। ফলে গ্রামের কলেজগুলো খুবই খারাপ অবস্থায় চলছে। এতে শিক্ষার মানও কমে যাচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজে শিক্ষকের পদ ৮৫টি। শিক্ষক কম আছেন ১৯ জন। প্রাণিবিদ্যায় শিক্ষক কম থাকার পরও সম্প্রতি ঢাকার একটি সরকারি কলেজে একজন সহকারী অধ্যাপককে সংযুক্ত করে নেয়া হয়েছে। উপাধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, কলেজটিকে ১৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। দেশের একমাত্র সরকারি কলেজ, যেখানে দুই শিফটে শিক্ষা কার্যক্রম চলে। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের পদ আরো বাড়ানো দরকার।
এদিকে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী সরকারি কলেজের সমাজ বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ও ফরিদপুর সরকারি কলেজের ইতিহাসের এক শিক্ষককে সদ্য চালু হওয়া ঢাকার একটি সরকারি কলেজে সংযুক্ত করে আনা হয়েছে। এছাড়া ঢাকার পাশের কলেজ যেমন ধামরাই সরকারি কলেজ, মানিকগঞ্জের সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ ও ঘিওর সরকারি কলেজ থেকেও ঢাকার একটি কলেজে সম্প্রতি সংযুক্ত করে আনা হয়েছে পাঁচ শিক্ষককে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চরভদ্রাসন সরকারি কলেজে ১৯ জন, রাজেন্দ্রপুর সরকারি কলেজে ১৪ জন, সরকারি নাজিম উদ্দিন কলেজে ১৬ জন শিক্ষক কম আছে। এভাবে রাজধানীর বাইরে ঢাকা বিভাগের প্রতিটি কলেজেই শিক্ষকের পদ শূন্য আছে।
