আওয়ামী লীগের যৌথ সভা আজ

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে

আপডেট : ০১ জুন ২০১৪, ২৩:০৮
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও দলীয় সংসদ সদস্যদের এক জরুরি যৌথ সভা ডাকা হয়েছে আজ সোমবার। সন্ধ্যা সাতটায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে এই সভা হবে। নারায়ণগঞ্জ, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা ও পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হত্যাকাণ্ডসহ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এবং দশম জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরুর আগের দিন অনুষ্ঠেয় এই যৌথসভাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে দেশটির ক্ষমতার পটপরিবর্তন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে আকস্মিক উত্তেজনা, ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১৫৪ জন সংসদ সদস্যের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে চলমান রিট এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সাম্প্রতিক প্রকাশিত একাধিক ‘নেতিবাচক’ প্রতিবেদন ও মন্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আজকের এই যৌথসভাকে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা তাত্পর্যপূর্ণ ও দিক-নির্দেশনামূলক মনে করছেন। মন্ত্রিসভায় থাকা আওয়ামী লীগের দুইজন প্রভাবশালী নেতা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে গতকাল রাতে ইত্তেফাককে বলেন, মূলত বাজেট অধিবেশন সামনে রেখেই এই সভা ডাকা হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের অনেকেই সংসদ সদস্য। সে কারণে যৌথসভা। বাজেট নিয়ে দলীয় এমপিদের কারও কোনো প্রস্তাব থাকলে সেটি হয়তো বৈঠকে জানতে চাওয়া হবে। এছাড়া বর্তমান সরকারের প্রথম এই বাজেট অধিবেশন চলাকালে দলীয় এমপিরা যেন নিয়মিত উপস্থিত থাকেন এবং এর ওপর সাধারণ আলোচনার প্রস্তুতি নেন, সেজন্য নিশ্চয়ই সংসদ নেতা কিছু পরামর্শ বা দিক-নির্দেশনা দেবেন। দলটির এই দুই নেতার মতে, প্রাসঙ্গিকভাবেই সমসাময়িক বিষয়ও বৈঠকের আলোচনায় স্থান পাবে। বিশেষ করে গত এক-দেড় মাসে কয়েকটি জেলায় ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উঠতে পারে। বিএনপি-জামায়াতসহ ‘কুচক্রী’ মহল সরকারি দলের ভেতরে ঢুকে এসব ঘটনা ঘটিয়ে সরকারকে যেন বিপাকে ফেলতে না পারে, সেজন্য দলীয় সভানেত্রী কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের সতর্ক করতে পারেন। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেও যেন এই ধরনের ঘটনা ঘটতে না পারে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী দিক-নির্দেশনা দিতে পারেন বলেও ধারণা করছেন আওয়ামী লীগের এই নেতারা।