র্যাব-১৪ এর ভৈরব ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর এ জেড এম সাকিব সিদ্দিক, এসআই মো. এনামুল হকসহ ৭ র্যাব সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। এক যুবককে নির্যাতন ও পরে তার মৃত্যুর ঘটনায় গতকাল রবিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন নাহারের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নিহতের ভাই মেহেদী হাসান। মামলায় আরো চার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২৯ এপ্রিল জেলার নবীনগর উপজেলার বগডহর গ্রামের হাজী রহিস উদ্দিনের পুত্র শাহনুর আলমকে র্যাব ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা গ্রেফতার করে ক্যাম্পে এনে নির্যাতন করেন। এ কারণে গত ৬ মে কারা হেফাজতে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
গতকাল মামলার শুনানিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৬ জন আইনজীবী অংশ নেন। আদালত আগামী ৪ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন বলে জানিয়েছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট খায়রুল আনাম।
যেভাবে গ্রেফতার ও নির্যাতন : মামলার আর্জিতে বাদী উল্লেখ করেন, গত ২৯ এপ্রিল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সাদা পোশাক পরিহিত ৯ ব্যক্তি রহিস উদ্দিনের বাড়িতে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে তার ছেলে শাহনুর আলমকে চোখ ও মুখ বেঁধে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পরে অভিযুক্ত র্যাব কমান্ডার ভৈরব ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে পিটিয়ে শাহনুরকে মারাত্মকভাবে আহত করেন। এক পর্যায়ে বুট জুতা দিয়ে তার কোমড় ও তলপেটে লাথি মারেন। নির্মম এই নির্যাতনে শাহনুর সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। পরদিন সকাল সাড়ে ৮টায় জ্ঞান ফিরে এলে তাকে নবীনগর থানায় পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিন নবীনগরের মৃত শরফত আলীর পুত্র আবু তাহের মিয়াকে (৪৫) থানায় ডেকে এনে বাদী করে শাহনুরসহ কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলা (নং-৮২) করে পুলিশ। এ মামলায় শাহনুরকে গ্রেফতার দেখিয়ে ১ মে কোর্টে চালান দেয়া হয়। এছাড়া মামলা দায়েরের পূর্বেই র্যাবের এস আই মো. এনামুল হক একটি জব্দ তালিকা প্রস্তুত করেন।
এদিকে অমানুষিক নির্যাতনে শাহনুরের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কারা কর্তৃপক্ষ গত ৪ মে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার আরো অবনতি ঘটলে ৬ মে তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় শাহনুর মারা যান। সুরতহাল রিপোর্টে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
আর্জিতে আরো উল্লেখ করা হয়, শাহনুরের বিরুদ্ধে দেশের কোন থানা বা আদালতে মামলা নেই। শাহনুরের মৃত্যুর পর নিহতের স্বজনরা ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে সাংবাদিক সম্মেলনও করেছেন।
