কেউ আমাকে ৫ কোটি টাকা দেওয়ার সাহস করছে না

আপডেট : ০২ জুন ২০১৪, ২১:২১
নির্মাতার সাক্ষাত্কার যখন নেওয়া হচ্ছিল, তখনই অনলাইনে খবর এল ওপার বাংলার ‘মনপুরা’ রিমেক চলচ্চিত্রের নির্মাতা স্বপন দাস আর নেই। সেই দুঃসংবাদ নিয়েই কথা শুরু হলো। ‘মনপুরা’র মূল নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিমের নির্মাণে বর্তমানে বিবিসি বাংলার আয়োজনে একটি ভিন্নধারার নাটক প্রচার হচ্ছে বিটিভিতে। এই যাবতীয় প্রসঙ্গেই কথা বললেন তিনি বিনোদন প্রতিদিনের সাথে (‘খুবই খারাপ লাগছে স্বপন দা’র কথাটা শুনে। আমার ‘মনপুরা’ যখন সুপারহিট তখন কলকাতার প্রযোজক এলেন কলকাতার জন্য আরেকটি ‘মনপুরা’ করে দেওয়ার জন্য। আমি বলেছিলাম পারব না। তখন স্বপন দাস ছবিটির কাজ নিলেন। এরপর ফোনে কথা হয়েছে দু-একবার। এটুকুই। তার ‘মনপুরা’ রিমেকটা আমি আজ পর্যন্ত দেখিওনি। কিন্তু আমার সন্তানের রিমেক ভার্সনের নির্মাতার এই মৃত্যুর খবরে সত্যিই কষ্ট পাচ্ছি’, বললেন গিয়াসউদ্দিন সেলিম।) আপনার কাছে প্রথম প্রশ্ন হলো, কেন মাঝে বিরতি দিলেন। সেটারই বা কী কারণ ? এটার তেমন কোনো কারণ নেই। মূল কারণ হলো বাজেট। আমি যেমনটা করতে চাই সেই বাজেট দেওয়া হয়নি বলে কাজ করিনি। তবে ‘মনপুরা’র মতো এত বড় হিট দেওয়ার পরও কেন আপনার ছবি পাচ্ছি না। এখানে তো বাজেট সমস্যা থাকার কথা না। হ্যাঁ, এখানেও সেই একই বাজেট সমস্যা। কারণ ‘মনপুরা’র পর আমি যেই ছবিটির কাজ হাতে নিয়েছি। সেটা হলো ‘কাজলরেখা’। বেশ বড় প্রেক্ষাপট নিয়ে। এই ছবি করতে আমার ৫ কোটি টাকা প্রয়োজন। কেউ আমাকে ৫ কোটি টাকা দেওয়ার সাহস করছে না। কিন্তু, আপনার পরেও তো অনেক নির্মাতা একসাথে একাধিক কাজ করেছেন। সেক্ষেত্রে আপনি কেন সময় নিচ্ছেন? ‘মনপুরা’ হিট হওয়ার পর কি কোনো প্রযোজকই আপনার কাছে আসেননি? ওই যে বললাম, আমি আমার কাজের ক্ষেত্রে এতটুকুও কম্প্রোমাইজ করতে চাই না। আর অন্যদের ব্যাপার আলাদা। আমারটা আলাদা। এখানে কারো সাথে কারো মেলানোটা ঠিক হবে না। আমার কাছে একাধিক প্রযোজক এসেছে। কিন্তু সকলে ওই আমার কাছে আরেকটা ‘মনপুরা’ বানিয়ে দিতে বলে। আমি তো সেই কাজ করব না। আমি তো জীবনেও আরেকটা ‘মনপুরা’ বানাব না। সিনেমা নির্মণের ক্ষেত্রে আপনার এই নীরবতায় কি দর্শকেরা কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না ? হয় হয়তো। তবে সেটা সাময়িক। কিন্তু এই আবেগে তাড়িত হয়ে নিম্নমানের ছবি করলে কিন্তু ওরাই সর্বপ্রথম আমাকে গালি দেবে। এর ভেতরে আপনার ‘কাজলরেখা’ নিয়ে নানা খবর আমরা পেয়েছি। কেউ বলছেন আপনি রাইমা সেনকে নিয়ে কাজ করছেন, কেউ বলছেন বলিউড থেকে অভিনেত্রী এনে কাজ করছেন। এসব খবরের ভিত্তি কতটা রয়েছে? এসব খবরের কোনো ভিত্তি নেই। কারণ এখনও প্রযোজকই ঠিক করিনি। প্রযোজক ঠিক করেই তবে ছবির অন্যান্য বিষয় ঠিক করব। আর ছবির কাস্টিং হলো সবচেয়ে পরের বিষয়। এখনকার টিভি অনুষ্ঠানের মান বা বাংলাদেশি নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার এই অবস্থায় একজন নির্মাতা হিসেবে আপনি নিজে কতটা দায় নেবেন? এই সবকিছুর জন্য নির্মাতা দায়ী নন। আমাদের এখানে চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও তাই। ওরা একটা প্যাকেজ আওতায় চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চায়। আমার কথা হলো বাজেটের জন্য চলচ্চিত্র না। চলচ্চিত্রের জন্য বাজেট হওয়া দরকার। তবে কী এভাবেই বাজেট, প্রডিউসার আর নানা অসঙ্গতির দোহাই দেখিয়ে চুপ করে থাকবেন। নতুন কী কোনো চলচ্চিত্রই আমরা পাবো না? অবশ্যই পাবেন। আমি এবারে ভাবছি। ‘কাজলরেখা’র প্রডিউসার না পেলে নতুন আরেকটি ছবি বানাব। সেটার স্ত্রিপ্ট তৈরি করছি। যে করেই হোক। এ বছর নতুন ছবির কাজ শুরু করবই।