বঙ্গোপসাগরে সেন্টমার্টিন দ্বীপের পূর্বদিকে মিয়ানমারের নিজেদের জলসীমায় মোতায়েন করা যুদ্ধজাহাজগুলো সরে গেছে। সেন্ট মার্টিনের আশেপাশের এলাকা থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশি জেলেরা এই তথ্য জানিয়েছেন। সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন জানান, গত শুক্রবার থেকে দ্বীপের পূর্বদিকে মিয়ান-মারের জলসীমায় সে দেশের নৌবাহিনীর তিনটি যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করার খবর পেয়েছি। কিন্তু সোমবার সকাল থেকে জাহাজগুলো দেখা যাচ্ছে না। সোমবার সকাল থেকে সেন্ট মার্টিনে বাংলাদেশের জলসীমায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৫টি যুদ্ধজাহাজ টহল দিতে দেখা গেছে। এ কারণে হয়তো মিয়ানমারের তিনটি যুদ্ধজাহাজ ফিরে গেছে।
সেন্ট মার্টিন কোস্টগার্ড স্টেশনের কমান্ডার লে. শহিদুল আল-আহসান জানান, সেন্ট মার্টিনের পূর্বে মিয়ানমারের মংডু থানার হাসুরাতা ও কিলা দং এলাকায় সমুদ্রে নৌবাহিনীর জাহাজ অবস্থান করেছিল। সেগুলো সোমবার সকাল থেকে ওই এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। তাই টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক করা হয়েছে।
এদিকে টেকনাফ স্থল বন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তা নুরে আলম জানান, রবিবার রাত নয়টা থেকে সোমবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে পণ্যবোঝাই ১৩টি ট্রলার স্থলবন্দরে আসে। স্থলবন্দরের কাঠ ব্যবসায়ী শওকত আলী বলেন, সকালে ৫০ টন কাঠবোঝাই তার একটি ট্রলার মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে আসে। টেকনাফ স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সমপাদক এহতেশামুল হক জানান, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে উত্তেজনার পর মিয়ানমারের সমুদ্র সীমানায় সে দেশে নৌবাহিনীর জাহাজ টহলরত থাকায় গত দুইদিন মিয়ানমার থেকে পণ্যবাহী ট্রলার আসতে পারেনি। সীমান্তের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হয়ে আসায় রবিবার রাত নয়টা থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে পণ্যবাহী ট্রলার আসছে। সোমবার টেকনাফ থেকে চারটি ট্রলারে করে পণ্য সামগ্রী মিয়ানমারে রফতানি হয়েছে।
এদিকে আমাদের উখিয়া সংবাদদাতা জানান, সোমবার বিকাল ৩টায় বান্দরবানের সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনকালে বান্দরবান জেলা প্রশাসক কেএম তারিকুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত এলাকায় যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সেজন্য মিয়ানমার সরকার দায়ী।
