পৃথক পৃথক প্রতীকে জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকারের সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রতিটি নির্বাচনের জন্য আলাদা প্রতীক সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিশেষ প্রতীক সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি নির্বাচনের ‘নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা’ সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, প্রতিটি নির্বাচনে বিশেষ প্রতীক ব্যবহার করতে চায় কমিশন। এজন্য প্রচলিত প্রতীকগুলো থেকে আলাদা আলাদা তালিকা প্রস্তুত করা হবে। এটি চূড়ান্ত হলে এক নির্বাচনের প্রতীক অন্য নির্বাচনে ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ হবে।
এদিকে, ভারতের ভূ-খন্ডে অবস্থিত বাংলাদেশের ছিটমহলের বাসিন্দাদের ভোটার তালিকার অন্তর্ভুক্তির জন্য পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিচ্ছে কমিশন। একইসঙ্গে উপজেলা পরিষদে সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার জন্য জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সোমবার নির্বাচন কমিশন সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুসারে সংসদ নির্বাচনের জন্য বর্তমানে ১৪০টি প্রতীক বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৪১টি রাজনৈতিক দলের জন্য ৪১টি সংরক্ষিত আছে। সংরক্ষিত প্রতীকগুলো অন্য নির্বাচনে ব্যবহারের সুযোগ নেই। বাকী প্রতীকগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ও স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনে ব্যবহার করা হয়। ৯৯টি প্রতীকের মধ্যে সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ৬৮টি প্রতীক ব্যবহার করা হয়। মেয়র পদে ২০টি, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৮টি, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩০টি প্রতীক আছে। উপজেলা পরিষদে ব্যবহূত হয় ৫০টি প্রতীক। চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য ২০টি, প্রতীক ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৫টি ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের জন্য ১৫টি। পৌরসভার নির্বাচনে ৩০টি প্রতীকের মধ্যে মেয়র পদে ১০টি, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৮টি এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১২টি প্রতীক রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ২৮টি প্রতীকের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১০টি, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৮টি, সাধারণ সদস্য পদে ১০টি প্রতীক। ফলে যে প্রতীকে সংসদ নির্বাচন হচ্ছে আবার সেই একই প্রতীকে স্থানীয় সরকারের অন্যান্য সংস্থার নির্বাচনেও ব্যবহূত হচ্ছে। এ জন্য কমিশন জাতীয় সংসদের জন্য এখন থেকে শুধু ৬০টি সংরক্ষিত রাখতে চায়। তালিকায় নতুন প্রতীক সংযুক্ত করে সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে পৃথকভাবে সংরক্ষিত রাখবে। একজন নির্বাচন কর্মকর্তা উদাহরণ দিয়ে বলেন, আনারস প্রতীক উপজেলার নির্বাচনে ব্যবহূত হলে সেটি সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের কোন পদে ব্যবহার করা যাবে না। অনুরূপভাবে এক নির্বাচনের সঙ্গে অন্য নির্বাচনের প্রতীকের কোন সাদৃশ্য থাকবে না।
দু’মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেবে ইসি :ভারতের ভূ-খন্ডে অবস্থিত প্রায় ৫ লাখ ছিটমহলবাসীকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে মতামত নিতে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিতে যাচ্ছে কমিশন। ছিটমহলে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে আজকালের মধ্যে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। ছিটমহলের বাসিন্দাদের বাদ রেখে গত ১৫ মে থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু করে কমিশন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক পর্যায়ে ১৬২টি ছিটমহল বিনিময়ের সিদ্ধান্ত কার্যকর না হওয়ায় ছিটমহলবাসীকে ভোটার তালিকায় যুক্ত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারপরেও তাদের ভোটার করার বিষয়ে ২০১২ সালের মতো এবার দুই মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। তবে তত্কালীন কমিশনের চিঠির জবাবে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ছিটমহলের বিনিময় বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ছিটমহল বিনিময় নিষ্পত্তি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।
ভোটার তালিকা করার নির্দেশ :চতুর্থ উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসাবে ভোটার তালিকা করার জন্য ২১টি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রজমানের পরেই ১২৭টি উপজেলায় নারী সদস্য পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। ৪৮৭টির মধ্যে বাকী ৩৬০টি উপজেলার দ্রুত সীমানা বিন্যাসের কাজ শেষ করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। চলতি সপ্তাহেই চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব।
