মোবারকের মামলার রায় যে কোন দিন

আপডেট : ০২ জুন ২০১৪, ২৩:১৭
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মো. মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় যে কোন দিন ঘোষণা করা হবে। গতকাল সোমবার মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রাখেন। এ নিয়ে দুই যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে মোট চারটি মামলার রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-১ এ আছে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী ও ফরিদপুর বিএনপির নেতা পলাতক জাহিদ হোসেনের মামলার রায়। আর ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণার অপেক্ষায় আছে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর মামলা। মোবারকের মামলায় আইনি পয়েন্টে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের জবাবে গতকাল অধিকতর ও সমাপনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের দুটি আবেদনের উপর শুনানি হয়। এ মামলায় উভয়পক্ষ প্রায় তিনদিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। আসামির বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, আটক, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে দাবি করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কামনা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। অপরদিকে আসামির বিরুদ্ধে আনা জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ (জেসিই) ও সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটিসহ কোন অভিযোগ প্রমাণ হয়নি দাবি আসামিপক্ষের। তাই এ মামলা থেকে মোবারক হোসেন অব্যাহতি পাবেন বলে প্রত্যাশা তাদের। মোবারক একাত্তর পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করলেও পরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন এবং এক পর্যায়ে আখাউড়ার মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। দুই বছর আগে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। একাত্তরে একটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ২০০৯ সালের ৩ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর তার মামলা যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। পরে কয়েক দফায় তার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেন ট্রাইব্যুনাল। সর্বশেষ ১২ মার্চ তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আমলে নিয়ে জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।