‘খ’ তফসিলভুক্ত অর্পিত সম্পত্তির প্রকৃত মালিক পাওয়া না গেলে সে সম্পত্তি নিয়ে নেবে সরকার। এ সম্পত্তির প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য সরকার এক বছর সময় দিয়েছে। গত ২৫ মে ভূিম মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে এ সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ করা যেতে পারে যে, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন-২০১৩ জারি করা হয়েছে। এ আইনে অর্পিত সম্পত্তির দুই ধরনের শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। যেসব সম্পত্তি ব্যক্তির দখলে আছে এবং সরকার কর্তৃক ইজারা দেয়া হয় সে সব সম্পত্তি ‘খ’ তফসিলভুক্ত করা হয়। এরকম জমির পরিমাণ সারাদেশে ৬ লাখ একর। এছাড়া ইজারাবহির্ভূত সম্পত্তি ‘ক’ তফসিলভুক্ত করা হয়। ‘ক’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি নিষ্পত্তির জন্য সারাদেশে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এসব ট্রাইব্যুনালে মামলা-মোকদ্দমার মাধ্যমে নিষ্পত্তির ধারা অব্যাহত আছে। যদিও এক্ষেত্রে অনেক হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। তবে হয়রানি হচ্ছে বেশি ‘খ’ তফসিলের জমি নিয়ে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, দলিলপত্র ঠিক থাকলে তা দেখে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) এরকম জমি ব্যক্তির মালিকানায় খতিয়ান খুলে খাজনা নেয়ার নির্দেশ দেয়ার কথা। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নানা অজুহাত তৈরি করে মানুষকে সর্বস্বান্ত করা হচ্ছে- এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
এরকম বাস্তবতায় গত ২৫ মে ভূমি মন্ত্রণালয় আরেকটি পরিপত্র জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে এবার যদি কোন ক্ষেত্রে হয়রানির অভিযোগ উঠে সেক্ষেত্রে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন-২০১৩-এর ২৪ ধারা অনুযায়ী অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, ২০০১-এ সন্নিবেশিত ২৮ ‘ক’ ধারার বিধান মতে, বাতিলকৃত ‘খ’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তির মধ্যে যে সকল সম্পত্তির হোল্ডিং বৈধভাবে খোলা হয়েছিলো এবং ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা হতো সে সকল সম্পত্তির ভূমি উন্নয়ন কর পূর্ববত্ আদায় করতে হবে। রেজিস্ট্রিকৃত বৈধ দলিলাদি থাকার পরেও যাদের নামে খতিয়ান খোলা হয়নি তাদের নামে খতিয়ান খুলে ভূমি উন্নয়ন কর পূর্ববত্ আদায় করতে হবে। এছাড়া আইনানুগভাবে রেজিস্ট্রিকৃত বিনিময় দলিলের অন্তর্ভুক্ত ভূমির ক্ষেত্রে যদি পৃথক খতিয়ান খোলা না হয়ে থাকে তবে সে সব ক্ষেত্রে দলিলের সত্যতা যাচাইপূর্বক পৃথক খতিয়ান খুলে ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণ করতে হবে।
‘খ’ তালিকা গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে উপযুক্ত আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে যে সকল সম্পত্তি অবমুক্তির আদেশ দেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। ‘খ’ তফসিলভুক্ত যে সকল সম্পত্তি ১/১ খতিয়ানে অথবা অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে অন্যকোন খতিয়ানে (যেমন ব্যক্তির নামীয় খতিয়ানে হাল সাং ভারত ইত্যকার) রেকর্ড হয়েছে তা অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন-২০১৩ কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে বাতিল বলে গণ্য হবে এবং উক্ত খতিয়ান বৈধ দাবিদারের নামে সংশোধন করার জন্য রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন-১৯৫০-এর ১৪৩ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের ক্ষেত্রে বকেয়াসহ হাল সন পর্যন্ত আদায় করতে হবে। বাতিলকৃত ‘খ’ তফসিলভুক্ত যেসব সম্পত্তির ভোগদখলকারী তাদের মালিকানার সমর্থনে এ পরিপত্র জারির এক বছরের মধ্যে বৈধ প্রমাণপত্র বা দলিলাদি উপস্থাপনে ব্যর্থ হবেন, সেসব সম্পত্তি রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন-১৯৫০-এর ৯২ ধারামতে খাস ঘোষণা করতে হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারগণ রাজস্ব সম্মেলনে এ পরিপত্রে বর্ণিত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনাপূর্বক ভূমি মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন।
